বলিউডে সাধারণত ছবি মুক্তির আগে নায়ক-নায়িকারা সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাৎকার দেন। ছবি মুক্তির পর এটা খুব একটা হয় না। এ ক্ষেত্রে আবার উল্টো পথে হাঁটলেন বলিউডের ‘দেশি সুপারম্যান’ অক্ষয় কুমার। অবশ্য এখন তিনি স্রোতের বিপরীতে চলতে পছন্দ করছেন। তাই টয়লেট: এক প্রেম কথার পর প্যাডম্যান-এর মতো ছবি করার সাহস তিনি পান।

তবে অক্ষয়ের এই সাহসী পদক্ষেপে তাঁর পাশে নেই পুরুষেরাই। এমনটাই দাবি করেছেন এই অভিনেতা। পুরুষেরাই নাকি তাঁকে নিরাশ করেছেন।

প্যাডম্যান মুক্তির বেশ কয়েক দিন পর আবার প্রথম আলোর মুখোমুখি হন বলিউডের সুপারস্টার অক্ষয় কুমার। কিছু প্রশ্ন করার আগে অক্ষয় নিজেই হতাশার সুরে এক নিশ্বাসে বলেন, ‘দেখুন, ছবি থেকে অর্থ উপার্জন করা আমার মূল উদ্দেশ্য নয়। ১৮ কোটি টাকায় আমি ছবিটি নির্মাণ করেছি। দেশ-বিদেশ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আমার ছবি যা ব্যবসা করেছে, তাতে আমি খুশি।

টয়লেট: এক প্রেম কথা ছবিটি যে উদ্দেশ্য নিয়ে বানানো হয়েছিল, প্যাডম্যান-এর ক্ষেত্রেও তাই। প্যাডম্যান-এর মাধ্যমে পিরিয়ড নিয়ে প্রচলিত নানা কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাস সম্পর্কে নারীসমাজকে সচেতন করাই আমার প্রথম শর্ত।

আর স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা এবং মানসিকতায় পরিবর্তন আনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই পদক্ষেপে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন পুরুষেরাই। বিহার, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানায় নারীদের প্যাডম্যান দেখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে উঠেছেন পুরুষেরাই। তাই আমি খুবই হতাশ। আমার এই ছবিতে কোনো নোংরামি নেই। একটা সুন্দর প্রেমের ছবি। পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে দেখার ছবি।’

অক্ষয় টয়লেট-এর সফলতার রেশ টেনে বলেন, ‘সিনেমা খুব দ্রুত সমাজের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে এবং পরিবর্তন ঘটাতে পারে। টয়লেট তার জ্বলন্ত উদাহরণ। এখনো ৮২ শতাংশ নারী স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবহার জানেন না। খুব দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এই অজ্ঞতার মূলে কুঠারাঘাত করে দ্রুত চেতনার আলো আনাই ছিল আমার আসল উদ্দেশ্য।’

তাহলে কি আপনি এ ক্ষেত্রে অসফল? জবাবে এই বলিউড সুপারস্টার বলেন, ‘এই জন্যই তো সাংবাদিকদের সঙ্গে আমি আবার কথা বলছি। আমি চাই পুরুষেরা তাঁদের সঙ্গিনীদের নিয়ে এই ছবি যেন দেখেন।’ শুধু পুরুষেরা কেন, ছবি দেখার ক্ষেত্রে পয়সাটাও তো একটা অন্তরায়-তার উত্তরে বলিউডের ‘মি ক্লিন’ বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিন মাস পর থেকে ভারতের যেসব অঞ্চলে এই ছবিটি দেখানো জরুরি, সেখানে গিয়ে স্ক্রিন লাগিয়ে ছবিটি দেখানোর ব্যবস্থা করবে তারা।’

প্যাডম্যান অক্ষয়ের কাছে শুধু একটা ছবি নয়, এক বিপ্লব। এক আন্দোলন। আর তাঁর এই বিপ্লবের সুফল মহারাষ্ট্রসহ ধীরে ধীরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। মুম্বাইয়ের বিভিন্ন রেলস্টেশনে এবং বাস ডিপোতে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে প্যাডম্যানকে করমুক্ত ঘোষণা করেছেন। পুরুষেরা অক্ষয়ের এই আন্দোলনের শরিক হয়ে উঠলে হয়তো নারীসমাজ এগিয়ে যাবে আরও কয়েক কদম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য