শ্রীলঙ্কায় একটি যাত্রীবাহী বাসে বিস্ফোরণে ১২ সামরিক ব্যক্তিসহ ১৯ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার উত্তরাঞ্চলীয় জাফনা উপদ্বীপ থেকে কেন্দ্রাঞ্চলীয় শহর দিয়াথালাওয়া যাওয়ার পথে বাসটিতে বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছেন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সুমিথ আতাপাত্তু, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

শ্রীলঙ্কার প্রধান সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি এই দিয়াথালাওয়ায় অবস্থিত।

রয়টার্সকে আতাপাত্তু বলেছেন, “একটি যাত্রীবাহী বাসে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বাসটির কাঠামোর কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এটি একটি বোমার বিস্ফোরণ বলে সন্দেহ করছি আমরা।

“বিস্তারিত বের করতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।”

আহতদের মধ্যে সাত জন বেসামরিক, সাত জন সেনাবাহিনীর সদস্য ও পাঁচ জন বিমান বাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছেন তিনি। বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে গেলে তারা আহত হন।

প্রায় তিন দশক ধরে চলা শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ ২০০৯ সালে শেষ হওয়ার পর থেকে সামরিক বাহিনীর ওপর কোনো হামলা হয়নি।

ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপদেশটির দূর উত্তরাঞ্চলে সংখ্যালঘু তামিলদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেছিল টাইগার্স অব তামিল ইলম (এলটিটিই) ও আরো কয়েকটি তামিল বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

২৬ বছর ধরে লড়াই করার পর ২০০৯ সালের মে মাসে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয় সবচেয়ে শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী এলটিটিই। এলটিটিই-র পরাজয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের অবসান হয়।

গৃহযুদ্ধ চলাকালে তামিল টাইগারের বিদ্রোহীরা সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যস্থলে হামলা চালাতে প্রধানত ঘরে তৈরি বোমা (আইইডি) ব্যবহার করতো। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীটির হামলায় ২৬ বছরে অন্তত এক লাখ লোক নিহত হয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য