আগামী ছয় বছরের মধ্যে আরও অন্তত ২০টি এফ-৩৫এ স্টিলথ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করেছে জাপান।

স্থানীয়ভাবে সংযোজন না করে এর মধ্যে কিছু বা সবগুলো যুদ্ধবিমান তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন থেকে কিনে আনবে বলে তিনটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে।

এই ক্রয় পরিকল্পনা সম্পর্কে জানে এমন একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, “বাজেট ও উৎপাদন সূচী অনুযায়ী প্রায় ২৫টির মতো বিমান ক্রয়ই যথাযথ হবে।”

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমোদন না থাকায় সূত্রগুলো পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতিটি প্রায় ১০ কোটি ডলারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৈরি বিমান কিনলে প্রতিটি বিমানের কাঠামো বাবদ জাপানের তিন কোটি ডলার সাশ্রয় হবে।

নতুন কেনা এই যুদ্ধবিমানগুলো আগের ক্রয়াদেশে কেনা ৪২টি বিমানের বহরের সঙ্গে যুক্ত হবে। আগে কেনা বিমানগুলোর অধিকাংশ জাপানে মিতশুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ পরিচালিত একটি ‘চূড়ান্ত সংযোজন ও নির্ভূলতা যাচাই’ প্লান্টে সংযোজন করা হচ্ছে। মিতশুবিশি জাপানের নেতৃস্থানীয় সামরিক ঠিকাদার কোম্পানি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এ ধরনের দুটি কারখানার মধ্যে এটি অন্যতম। অপর কারখানাটি ইতালিতে অবস্থিত।

সম্প্রতি জাপানের প্রতিবেশী চীন স্টিলথ যুদ্ধবিমানসহ তাদের বহরে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজন করছে, পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে; এই পরিস্থিতিতে নিজের পূর্ব এশীয় প্রতিদ্বন্দ্বিদের থেকে সামরিক শক্তিতে এগিয়ে যেতে নিজেদের বহরে এফ-৩৫ যুক্ত করছে জাপান।

এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রযুক্তির ওপর জাপানের নির্ভরতা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জাপানের সামরিক পরিকল্পনাবিদরা সরাসরি খাড়াভাবে উড্ডয়ন ও ল্যান্ড করতে সক্ষম এফ-৩৫বি কেনার কথাও বিবেচনা করছে। এসব যুদ্ধবিমান পূর্ব চীন সাগরের প্রান্তে জাপানের ছোট ছোট দ্বীপগুলোতে কিংবা ইজুমো-ক্লাস হেলিকপ্টারবাহী রণতরীতেও মোতায়েন করা যাবে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাপান আরো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করেছে কিনা প্রশ্নের উত্তরে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসুনোরি ওনোদেরা বলেছেন, “আমরা এখনও কোনো পরিকল্পনা তৈরি করিনি, কোন যুদ্ধবিমান আমাদের দরকার তা যাচাই করছি আমরা।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য