ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জনবল সংকটের মুখে পড়েছে উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস ও উপজেলা ভুমি অফিস। উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে, ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরিতে কাজ করছে মাত্র চার জন। এখই অবস্থা উপজেলা ভূমি অফিসে, দির্ঘদিন থেকে শূন্য আছে সহাকারী কমিশনার (ভূমি) ও কানুনগোপদসহ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার পদ।

উপজেলা দুটি ভূমি অফিস, সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের কার্য্যলয় ও উপজেলা ভূমি অফিসে জনবল সংকট থাকায়, ভূমি সংক্রান্ত কাজ করতে এসে চরম হয়রানীর মুখে পড়েছে ভূমি মালিকগণ। দিন দিন বাড়ছে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা। ভুমি মালিকেরা বলছেন ভূমি অফিস গুলোতে প্রযাপ্ত জনবল না থাকায়। একই ব্যাক্তি একাধিক দপ্তরের কাজ করায়, এক দিনের কাজ করতে সময় লাগছে সাত দিনের বেশি। এতেকরে তারা হয়রানীর শিকার হচ্ছে।

এদিকে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের কার্য্যলয় (উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস) এর দির্ঘদিন থেকে জনবল সংকট থাকায় গত ১৫ বছরেও শেষ হয়নি, ভূমি জরিপের কাজ। উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত ২০০৩ সাল থেকে এই উপজেলায় ভূমি জরিপের কাজ শুরু হয়। গত ১৫ বছরে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকার ১৬৯ টি মৌজার মধ্যে, মাত্র ১৮টি মৌজার ভূমি জরিপের কাজ সম্পুর্ন হয়েছে। বাকি গুলো আছে আপত্তি ও আপিল শুনানীর অপেক্ষাসহ বিভিন্ন স্তরে।

সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা আফছার আলী বলেন রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের অধিনে গত ২০০৩ সালে এই অফিসটি যাত্রা শুরু করলেও এখানে কোন স্থায়ী কর্মকর্তা ছিল না। সকলে দায়ীত্ব পালন করেছে অতিরিক্ত দায়ীত্ব অনুযায়ী। ২০১২ সালে দিনাজপুর জোনাল অফিস শুরু হওয়ায় এই অফিসটি স্থায়ী অফিস হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

এর পর থেকে এই অফিসটির জনবল সংকট। তিনি আরো বলেন সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের কার্য্যলয় পদ রয়েছে ১২টি। সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার একজন, উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার একজন, ড্রান্স পরিক্ষক একজন, পেশকার একজন, ষ্টোর কিপার একজন, সার্ভেয়ার একজন, অফিস কাম বেঞ্চসহকারী একজন, খারিজ সহকারী একজন, পরিক্ষক মোহরা একজন, প্রসেসর সার্ভেয়ার একজন, এলএমএসএস একজন ও চেইনম্যন একজন। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছে একজন সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার, একজন উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার, একজন সার্ভেয়ার ও একজন খারিজ সহকারী, তিনি পেশকার ও ষ্টোর কিপার পদে অতিরিক্ত দায়ীত্ব পালন করছেন।

ভারপ্রাপ্ত পেশকার নুর মোহাম্মদ বলেন অফিসে এলএমএসএস না থাকায়, ৩০ ধারার আপত্তি মামলা শুনানীর নোটিশ জারী করা যাচ্ছেনা। এতেকরে আপত্তি মামলা গুলোর শুনানী করা যাচ্ছে না।

এদিকে উপজেলা ভূমি অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত ২০১৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসিম আহম্মেদ পদউন্নতি নিয়ে বদলী হওয়ার পর থেকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর পদটি শূন্য আছে। গত দুই বছর থেকে শূন্য কানুনগো পদ।

এছাড়া অফিসের প্রধান অফিস সহকারী, সাটিফিকেট সহকারী, সাটিফিকেট পেশকার এলএমএসএস পদ শুন্য আছে। অপরদিকে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা ভূমি অফিসের ৮টি ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও ৮টি ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার পদের বিপরিতে কর্মরত আছে ৬ জন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও দুই জন ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা। এই কারনে কাজিহাল ইউনিয় ভূমি অফিসে ও শিবনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে, ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রাজিব হোসেন ও আব্দুল মোতালেব, ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার দায়ীত্ব পালন করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য