কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ কাহারোলে ভূমিহীন ২০০টি পরিবার ঠাই পেয়েছে সুন্দরপুর গুচ্ছ গ্রাম ও একই ইউনিয়নে বাগপুর-২ গুচ্ছগ্রাম। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্বে সুন্দরপুর ইউনিয়নে অবস্থিত সুন্দরপুর গুচ্ছগ্রাম-১ ও ২ এবং বাগপুর গুচ্ছগ্রাম-২ গুচ্ছগুলো।

আর এই গুচ্ছগ্রামের মধ্যে ঠাই পেয়েছে অত্র ইউনিয়নের ২০০টি ভূমিহীন পরিবার। জানা যায়, প্রায় ৪ কোটি ১০ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে সুন্দরপুর গুচ্ছ গ্রাম-১ ও ২ এবং বাগপুর-২ গুচ্ছ গ্রাম এর নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সরকারী নিয়ম নীতি ও প্রাক্কলন অনুযায়ী সমাপ্ত করা হয়েছে বলে নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা যায়।

ভূমিহীনদের জন্য নির্মানকৃত গুচ্ছগ্রাম গুলো গত ৩ মে’১৭ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাগপুর-২ গুচ্চগ্রামের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং পরে গত ১৪ নভেম্বর’১৭ তারিখে ভুমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজামান চৌধুরী জাবেদ সুন্দরপুর গুচ্ছগ্রাম সম্প্রসারণ-১ও ২ আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ধোধন করেন ।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এক নজর সরেজমিনে ঘুরে দেখা ও জানা গেছে , দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার ৫নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের সুন্দরপুর মৌজার ঢেপা নদীর চরে ৫ একর ৭৫ শতক জায়গা জুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে গুচ্ছ গ্রাম গুলো। চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে ঐসব গুচ্ছ গ্রামের কাজ শুরু করা হয়।

সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায়, সিভিআরপি প্রকল্পের আওতায় সুন্দরপুর গুচ্ছ গ্রাম-১ ও ২ এবং বাগপুর-২ গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্প তিনটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঐসব গুচ্ছ গ্রামের শত ভাগ কাজ প্রাক্কলন অনুযায়ী ইতোমধ্যে সমাপ্ত করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য সরকারের ব্যয় হবে দেড় লক্ষ টাকার মত।

ভূমিহীনরা যেন মাছ চাষ করতে পারেন সেই জন্য ২ একর ৫০ শতক জায়গা জুড়ে রয়েছে বিশাল আকৃতির একটি পুকুর। প্রতিটি পরিবারের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১টি করে টিনের ঘর, স্যানেটারী ল্যাট্রিন, বন্ধু চুলা(উন্নত চুলা), এ ছাড়াও ৬টি পরিবারের জন্য ১টি করে টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে গুচ্ছগ্রামে।

এর পাশাপাশি রয়েছে ফুল ও ফলের গাছের চারা রোপন করা। এছাড়াও ভূমিহীন পরিবারকে স্বাবলম্বি করতে গড়ে তোলা হয়েছে ১টি সঞ্চয় সমিতি, বিনোদনের জন্য রয়েছে মাল্টিপারপাস হলরুম। সরকারি ভাবে সুন্দরপুর ইউনিয়নে তিনটি গুচ্ছ গ্রাম নির্মাণ করে ২০০টি ভূমিহীন পরিবার মাথা গোজাবার ঠাই পেয়েছে এবং ভূমিহীনদের মুখে হাঁসি ফুঁটে উঠেছে।

এদিকে গুচ্ছগ্রাম নির্মান কালীন সময়ে অত্র উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার সঙ্গে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি কাহারোল উপজেলায় দায়িত্ব পালন কালীন সময়ে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে তিনটি গু”্ছগ্রাম নির্মান কাজ সুষ্ঠ ও প্রাক্কলন মোতাবেক সম্পূর্ণ করি এবং সেই গুচ্ছ গ্রামে বসবাসরত পরিবারগুলো সঠিক ভাবে ও মনোযোগ সহকারে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী, মাছ চাষ করে সাবলম্বী হতে পারে সেই জন্য সর্বদায় আমার পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত ছিল এবং সরকারের পক্ষ থেকে ও সকল প্রকার সহযোগিতা অব্যাহত ছিল।

তিনি আরও জানান, এসব ভূমিহীন পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ধারে সরকারী ও মালিকানাধীন পরিত্যাক্ত ভূমির উপরে অতি কষ্টে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিল, তাদেরকে সরকার গুচ্ছগ্রামে সরকারি ভাবে পূর্ণবাসিত করার জন্য গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প গ্রহণ করে ঘর তৈরী করে বসবাসের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

যাতে তারা আর ঘর বা ভূমির জন্য এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে না হয় তারই ব্যবস্থা করেছে বর্তমান সরকার। ভূমিহীনরা গুচ্ছগ্রামে মাথা গোজার ঠাই পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ২০০টি ভূমিহীনদের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ হতে ইতোমধ্যে জমির দলিল, নামজারি সহ যাবতীয় কাগজপত্র প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে সুন্দরপুর গুচ্ছগ্রামে সরকারী ঘর পাওয়া দেলোয়ার হোসেন, সালেহা বেওয়া, রুবি আক্তার,নাসিম হোসেন,হাসান আলী, মোছাঃ মাজেদা বেগম সহ আরও অনেকেই জানান,গত আগস্ট মাসে বন্যার সময় আমাদের ঘরে খাওয়ার মত কোন চাল ডাল ও অর্থ ছিল না কিন্তু কাহারোল উপজেলার ইউ,এন,ও আসলাম মোল্লা স্যার আমাদের গুচ্ছ গ্রামে এসে চাল,ডাল,লবন সহ নগদ অর্থ দেওয়ায় আমাদের ছেলে- মেয়ে নিয়ে এক মুঠো ভাত খেতে পেরেছি।

আমরা পূর্বের চেয়ে ভাল আছি গুচ্ছগ্রামের ঘরে বসবাস করে। তারা আরও জানান,আমরা জানি গুচ্ছগ্রামে সরকার শুধু ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। কিন্তু ঘরের মেঝে পাকা না করার কারণে আমাদের বসবাসে অসুবিধা হওয়ায় ইউ,এন,ও স্যার নিজ উদ্দ্যোগে ঘরের মেঝে পাকা করে দিয়ে আমাদের মনে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

অপর দিকে কাহারোল উপজেলার বর্তমানে কর্মরত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদের সঙ্গে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান , সুন্দরপুর ইউনিয়ের তিনটি সরকারী গুচ্ছগ্রাম গুলো আমার পুর্বের ইউ,এন,ও স্যার নির্মাণ কাজ সম্পর্নূ করে এবং ভূমিহীনদের মাঝে জমির দলিল, নামজারি, হস্তান্তর করেন।

আমি এই উপজেলায় আসারপর সুন্দরপুর -২ গুচ্ছগ্রামে ২০টি ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এসব ঘরে অবস্থানরত ভুমিহীনদের মাঝে আগামী কিছুদিনের মধ্যে ভুমির দলিল,নামজারি হস্তান্তর করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য