যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপ চেয়ে হোয়াইট হাউসের সামনের রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ করেছে এক দল শিক্ষার্থী। বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের মা-বাবা এবং শিক্ষকরাও অংশ নেন। সম্প্রতি ফ্লোরিডার স্কুলে হামলাকে কেন্দ্র করে এ বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান খবরটি জানিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

১৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পার্কল্যান্ডে মারজোরি স্টোনম্যান ডগলাস হাই স্কুলে ঢুকে পড়া বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গোলাগুলির পর হামলাকারী হিসেবে আটক করা হয় ওই স্কুলের সাবেক ছাত্র নিকোলাস ক্রুজকে। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে স্টোনম্যান ডগলাস হাই স্কুল থেকে ১৯ বছরের ওই তরুণকে এক সময় বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরইমধ্যে সে ‘স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। ফ্লোরিডার স্কুলে হামলাকে কেন্দ্র আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবিটি নতুন করে জোরালো হয়ে ওঠে।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের সামনের রাস্তায় সোজা হয়ে শুয়ে হাতগুলোকে বুকের উপর রেখে বিক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। ট্রাম্পকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে দুইজন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা দিয়ে নিজেদের ঢেকে ঢেলেন। আরেকজনের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। সেখানে লেখা ‘এরপর কি আমি?’

ভার্জিনিয়ার আলেক্সান্দ্রিয়া থেকে আসা হাই স্কুল শিক্ষার্থী এলা ফেসলার বলেন, ‘আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করাটা এবং যুক্তরাষ্ট্রে পরিবর্তন আনা এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করাটা জরুরি। প্রত্যেকদিন যখন আমি আমার মা-বাবাকে বিদায় জানাই তখন আমি এ বাস্তবতাও মাথায় রাখি যে তাদের সঙ্গে আর নাও দেখা হতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ইনস্ট্যান্ট ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড চেক সিস্টেম’(এনআইসিএস) বর্তমানে অপরাধে অভিযুক্ত বা মানসিক ভারসাম্যহীনতার মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে,এমন ব্যক্তিদের অস্ত্র কেনার অনুমতি না দেওয়ার ব্যাপারে প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের ওপর ভরসা করে। তবে বিদ্যমান এই নিয়মের ব্যর্থতা সামনে আসে যখন বিমানবাহিনী স্বীকার করে যে, তারা গুলি করে ২৬ জনকে মেরে ফেলা একজন হত্যাকারীকে আগে থেকে চিহ্নিত করতে পারেনি। এ ঘটনার পরই কর্নিন ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মার্ফি ব্যক্তিগত অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর যাচাই ব্যবস্থার প্রস্তাব করে বিল উত্থাপন করেছিলেন।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই নাগরিকদের অস্ত্র হাতে রাখার পক্ষপাতী। তবে শেষ পর্যন্ত সোমবার এ ইস্যুতে সুর নরম করেছেন তিনি। হোয়াট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স সোমবার বলেছেন, অস্ত্র বিক্রির আগে ক্রেতার অতীত যাচাইয়ের জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,এ বিষয়ে ট্রাম্প রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিনের সঙ্গে কথা বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে। এ নিয়ে প্রায় সময় বিদ্যমান অস্ত্র আইন এবং অস্ত্র বিক্রেতা ও রাজনীতিকদের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে গত বছরের অক্টোবরে লাস ভেগাসে বন্দুকধারীর হামলায় ৫৮ জন নিহত হওয়ার পরও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে কোনও সমঝোতায পৌঁছাতে পারেননি রাজনীতিবিদরা। ১৪ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডার স্কুলে হামলার পর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবিটি আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে। রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ডগলাস স্কুলের এক দল শিক্ষার্থী এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে জানায়, ২৪ মার্চ দেশজুড়ে আয়োজিত অন্যান্য র‍্যালির পাশাপাশি ‘মার্চ ফর আওয়ার লাইভস’ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিতর্কের অচলাবস্থা দূর করার ক্ষেত্রে ফ্লোরিডার স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনাকে নতুন মোড়ে পরিণত করার অঙ্গীকার করেছে তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য