নারীর অজান্তে তার স্কার্ট পরা শরীরের নিচের অংশের ছবি তোলার ঘটনাকে যুক্তরাজ্যে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে।

পুলিশের তথ্যে ১০ বছর বয়সী এক শিশুও এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছে জানার পর আন্দোলনকারীরা ‘আপস্কার্টিং’-কে যৌন অপরাধ হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছেন বলে খবর বিবিসির।

যুক্তরাজ্যের বর্তমান আইনে আপস্কার্টিংকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অন্য অপরাধের অভিযোগ আনছে।

এ সংক্রান্ত তথ্যের অনুরোধ জানানোর পর কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালের পর থেকে আপস্কার্টিংয়ের ১১টি ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের কথা জানিয়েছে বলে খবর বিবিসির।

প্রকৃতপক্ষে এ ধরণের ঘটনার সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে ধারণা আন্দোলনকারীদের।

“স্কার্টের নিচের অংশের ছবি তোলার চেষ্টা করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার গুরুতর লংঘন এবং এক ধরণের অশালীনতা,” বলেন যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের নারী ও সমতা বিষয়ক কমিটির চেয়ার মারিয়া মিলার।

এ ‘ভয়াবহ অপরাধ’ বন্ধে আরও কিছু করা উচিত; কঠোর আইনী কাঠামো এ সমস্যা থেকে উত্তরণে সাহায্য করতে পারে বলেও মন্তব্য তার।

আপস্কার্টিং নিষিদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পুলিশ একে অশালীনতাজনিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করে অভিযুক্তদের বিচারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের করা তথ্যের অনুরোধে ব্রিটিশ পুলিশ এ ধরনের ৭৮টি ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানের কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১১টি ক্ষেত্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে পেরেছে।

অ্যাভন ও সমারসেট পুলিশ ২০১৫ সালে ১০ বছর বয়সী এক বালিকার সঙ্গে এ ধরনের একটি ঘটনার কথাও বলছে যার মতো অনেকগুলো ঘটনাতেই পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে অগ্রসর হওয়া যায়নি।

নাইটক্লাব, দোকান এবং রেস্তোরাঁর মতো জনসমাগমস্থলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিস্তৃতভাবে আপস্কার্টিং ঘটছে বলে তথ্যে দেখা গেছে; অপ্রত্যাশিতভাবে তরুণীরাই এর লক্ষ্যবস্তু।

বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকার পুলিশের কাছে আসা এ ধরনের বেশ কয়েকটি অভিযোগ প্রকাশ করেছে।

এর একটিতে ডেভন ও কর্নওয়ালের এক নারী জানান, ক্যামেরা নিয়ে মেঝেতে উবু হয়ে এক অভিযুক্ত তার স্কার্ট পরা শরীরের নিচের অংশের ছবি তুলতে চেষ্টা করছিল, পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনি ওই ব্যক্তিকে দেখতে পান।

ডেভন ও কর্নওয়ালের পুলিশ এ ধরনের ঘটনায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা জানিয়েছে।

আপস্কার্টিংয়ের শিকার হওয়া নারীদের বয়স ছিল ২৫ থেকে ৪৭ এর মধ্যে, জানিয়েছে তারা।

লিঙ্কনশায়ারের পুলিশ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে নারীদের অজান্তে তাদের স্কার্টের নিচের অংশের ছবি তোলার অভিযোগ এনেছে। লিংকনের কর্নহিলের একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁর নিরাপত্তারক্ষীরাও এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে যে সিঁড়ির নিচে শুয়ে থেকে তরুণীদের স্কার্ট দেখতো।

নটিংহামেও এ ধরনের ছয়টি ঘটনার খোঁজ পাওয়া গেছে, যার দুটিতে পুলিশ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। একটি ঘটনায় এক ব্যক্তিকে দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়া এক নারীর স্কার্টের নিচের অংশের ছবি তুলতে দেখা গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগে দোকানের আশপাশে নারীটিকে অনুসরণও করেছিলেন।

ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ক্লেয়ার ম্যাকগ্লিন বলেন, “কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে দেখাচ্ছে- নারীরা এ ধরনের নির্যাতনের সম্মুখীন হবে না, এমন জনসমাগমস্থলের সংখ্যা খুবই কম।”

তিনি বলেন,“নারীদের মানবাধিকার লংঘন করা আপস্কার্টিংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইন করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।”

এ ধরনের ঘটনাকে যৌন নির্যাতন হিসেবে বিবেচনা করে হয়রানির শিকার নারীদের সুরক্ষা দেওয়া গেলে এবং তাদের গোপনীয়তা রক্ষা করে অভিযোগ করার সময় পরিচয় দেয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দিলে আপস্কার্টিংয়ের সংখ্যা কম হবে বলে ভাষ্য ম্যাকগ্লিনের।

“কেবলমাত্র তখনই হয়রানির শিকাররা এগিয়ে আসবে, পুলিশের কাছে অভিযোগ করবে এবং বিচারে সহায়তা করবে,” বলেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য