ভারতের ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ৫৯ টি আসনের ৩১৭৪টি কেন্দ্রে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে রাজ্যে বর্তমানে ক্ষমতাসীন বামফ্রন্টের সঙ্গে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির। ভোটারদের রায় জানা যাবে আগামী ৩ মার্চ।

ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনে মোট আসন সংখ্যা ৬০। রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য লাগবে ৩১টি আসন। রবিবার ভোটগ্রহণ চলছে ৫৯টিতে। একটি কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থীর মৃত্যুর প্রেক্ষিতে সেখানকার ভোটগ্রহণ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই কেন্দ্রে আগামী ১২ মার্চ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

গত ২৫ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও রাজ্যের ক্ষমতা ধরে রাখতে চায় বামফ্রন্ট। টানা চার মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী মানিক সরকারের প্রত্যাশা, আবারও ক্ষমতায় আসবে বামফ্রন্ট। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি জোটের সঙ্গে কঠিন লড়াই হবে বামদের। শেষ পর্যন্ত বামরা জনরায় পেলে পঞ্চমবারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া মার্কসবাদীর (সিপিএম) পলিট ব্যুরো সদস্য মানিক সরকার। আর বিজেপি জয় পেলে সেটা হবে বামফ্রন্টের জন্য দুর্গ পতনের মতো ঘটনা।

নির্বাচনে ৫৬টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে সিপিএম। তাদের শরিকরা প্রার্থী দিয়েছে তিনটি আসনে। বিজেপি ও কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে যথাক্রমে ৫০ ও ৫৮টি আসনে।

ত্রিপুরাতে অন্তত ১৯টি উপজাতি গোষ্ঠীর বাস হলেও রাজ্যে বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে নানা কারণে এই নির্বাচন নিয়ে ভারতে এবং ভারতের বাইরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ত্রিপুরার সাংবাদিক জয়ন্ত ভট্টাচার্য বলেন, এবার কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি কমিউনিস্টদের হাত থেকে এ রাজ্য ছিনিয়ে নিতে চাইছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলছেন, বিজেপি এবার এ রাজ্য শাসন করবে।

সাংবাদিক জয়ন্ত ভট্টাচার্য বলেন, ‘ওনারা চাইছেন কমিউনিস্টদের হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে অভিজ্ঞতা নিতে। আর সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কেরালায় প্রয়োগ করবেন। সেখানেও তারা সরকার গঠন করতে চান। তারা দুজনই এটা বলছেন বারবার।’

জয়ন্ত ভট্টাচার্য বলছেন, ত্রিপুরাকে বিজেপি’র টার্গেট করার কারণ হলো সেখানে বিরোধী দল কংগ্রেস দুর্বল হয়ে পড়েছে। কংগ্রেসের ১০ জন বিধায়কের সাতজন বিজেপিতে যোগ দিয়েছে।

তিনি বলেন, জনপ্রিয়তায় কারা এগিয়ে সেটা হলফ করে বলা যাচ্ছে না। তবে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। বিজেপি গত নির্বাচনে মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেস থেকে ও সিপিআইএম থেকে অনেকে যোগ দিয়েছে বিজেপিতে। ফলে দলটি শক্তিশালী হয়ে দৃশ্যত প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীরাও গত এক বছরে নিয়মিত রাজ্যটি সফর করেছেন। নরেন্দ্র মোদি দুই দফায় ত্রিপুরায় গিয়ে চারটি জনসভা করেছেন। দলটির শীর্ষ নেতারা অনেকেই গিয়েছেন সেখানে। অনেকদিন ধরেই তারা ত্রিপুরায় বিজেপিকে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিতে কাজ করছেন।

রাজ্যে দীর্ঘদিনের শাসক হিসেবে এবার কমিউনিস্টদের কি অবস্থা জানতে চাইলে জয়ন্ত ভট্টাচার্য বলেন, সিপিআইএম-এর কেন্দ্রীয় নেতারাও রাজ্য সফর করে জোরদার প্রচার চালিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার একাই ৫০টির মতো সভায় বক্তব্য দিয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি, বিবিসি বাংলা, ফার্স্টপোস্ট।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য