আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল থেকেঃ ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফিরোজ আলম। গরীবের ডাক্তার নামেই যার পরিচয়। তিনি গরীব অসহায় মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসা সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

‘ মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য ’ এমন কথা এখন কাল্পনিক কথা বলেই মনে হয়। কিন্তুসৃষ্টিকর্তা যদি মানুষের হৃদয়ে মায়া মমতা বিচার বিবেক জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি না করতো তবে এসব কথা ইতিহাসের পাতায় আসত না। আর এ মূল্যবান কথাটির যথার্থ খুজে পাওয়া যায় ডা. ফিরোজ আলমের জীবন আদর্শে।

তিনি একজন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার। সার্বক্ষণিক চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। সময় মতো হাসপাতালে থাকা অসুস্থ মানুষগুলোর পাশে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। মন দিয়ে রোগীর সব কথাই শুনেন তিনি। সমস্যার কথা শুনে সঠিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানুষের মন জয় করেছেন তিনি। অবসর সময়ে তার কাছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মানুষগুলোর কাছে ভিজিট নেন না তিনি। কাউকে বাধ্য করেন না ভিজিট দিতে। গরীব অসহায়দের সুখ দুঃখের ভাগিদার হয়ে যান।

শুধু রানিশংকৈলই না , হরিপুরের দরীদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝেও চিকিৎসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এমনকি রিক্সা ওয়ালা, ভ্যান চালক, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধিদের কোন প্রকার চিকিৎসা ফি ছাড়াই তাদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। কোন মেডিক্যাল অফিসার ছাড়াই তিনি একক ভাবে রাণীশংকৈল হাসপাতালের রোগীদের এবং জরুরী বিভাগে অনকলে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা দিয়ে আসছেন । এছাড়াও রাণীশংকৈলের রাঙ্গাটুঙ্গি মহিলা ফুটবল দলের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসার দার খোলা রেখেছেন তার প্রতিষ্ঠানে। তাদের ঔষধ পত্র যখন যা লাগে সব কিছু দিয়ে সাহায্য করে থাকেন।

কথা হয় পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডের সাহাবুদ্দিনের স্ত্রীর সাথে। তার বোনের চিকিৎসায় হাড়ের মধ্যে ইনজেকশন করার দরকার। গরীব মানুষ ৩০০ টাকা চিকিৎসা ফি দিয়ে ইনজেকশন করানো তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এমন কথা জানতে পেরে ডা. ফিরোজ কোন ধরনের ফি ছাড়াই সে সেবা দেন তাকে।

রাঙ্গাটুঙ্গি মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় দিপিকা হেমব্রম মিনির খালা একজন অসহায় অসুস্থ মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করায়। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ডের করার সিদ্ধান্ত নেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার কথা ভেবে চিকিৎসক ফিরোজ আলম ঝুঁকি নিয়ে সেখানে না পাঠিয়ে রাণীশংকৈল হাসপাতালেই তার চিকিৎসা করেন। যথাসময়ে সুস্থ্যও হয়ে ওঠে সে রোগী।

এলাকার অনেক অসহায় মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, ডা. ফিরোজ আলম একজন ভাল মানুষ। সে গরীব অসহায় মানুষের কথা ভাবে। গরীব অসহায় মানুষের কাছে শুধু চিকিৎসা ফি নেন না। কখনোবা তিনি নিজেই রোগীর ভরন পোষণ করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য