পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের এক শাখা থেকেই একশ ৮০ কোটি ডলার জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক দুই কর্মকর্তাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই।

দুইদিন ধরে দুই ডজনেরও বেশি স্থানে অভিযান চালানোর পর সিবিআাই এদের গ্রেপ্তার করে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার তিনজনকে ঘিরেই এখন তদন্ত অগ্রসর হচ্ছে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জানুয়ারির মাঝামাঝি ভারতের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংকের মুম্বাই শাখাতে বিশাল এ জালিয়াতির তথ্য উন্মোচিত হয়।

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (পিএনবি) কর্মকর্তারা এরপর গহনা ব্যবসায়ী নিরভ মোদী এবং তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেন। নিরভ ও তার আত্মীয় রত্ন ব্যবসায়ী মেহুল চোকসি ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে বিরাট অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এনডিটিভি বলছে, আর্থিক অপরাধ দমনে নিয়োজিত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ঘটনাটির তদন্ত শুরুর পর নিরভ ও মেহুলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শোরুম থেকে পাঁচ হাজার ছয়শ কোটি রূপির বেশি অর্থমূল্যের হীরা, গহনা ও স্বর্ণ জব্দ করেছে।

সিবিআইয়ের গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন পাঞ্জাব ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বিভাগের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার গোকুলনাথ শেঠি, যিনি আমদানির বিপরীতে অর্থ পরিশোধের বিষয়টি দেখভাল করতেন। গত বছরই তিনি ব্যাংক থেকে অবসরে যান।

ভারতের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ জালিয়াতিকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গোকুলনাথের সঙ্গে ব্যাংকটির আরেক সাবেক কর্মকর্তা মনোজ হনুমেন্ট খারাটকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্ত সংস্থা সিবিআই নিরভ মোদী, তার স্ত্রী, ভাই নিশাল ও আত্মীয় মেহুল চোকসির কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা হেমন্ত ভাটকেও গ্রেপ্তার করে।

গত মাসে নিরভের কোম্পানি পাঞ্জাব ব্যাংকের কাছে নতুন করে ঋণ চাইতে গেলে জালিয়াতির এ ঘটনা উন্মোচিত হয় বলেএনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঋণের বিপরীতে ব্যাংক জামানত চাইলে নিরভের কোম্পানি এর আগেও জামানত ছাড়াই বড় ঋণ পেয়েছে জানালে পিএনবির কর্মকর্তারা হতবাক হয়ে যান। পরে তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাদের অপরাধের তথ্য উঠে আসে, যারা ব্যাংককে না জানিয়েই নিরভের কোম্পানির নামে চুক্তিপত্র ইস্যু করতেন। ওই চুক্তিপত্র ভাঙিয়ে পরে বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ডলার তুলে নেওয়া হয়।

এনডিটিভি বলছে, যে কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এতদিন এ জালিয়াতি চলে আসছিল, তারা যে অবসরে গেছেন ঋণ চাওয়া প্রতিষ্ঠানটি সে খবর না রাখায় অন্য কর্মকর্তাদের কাছে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। এর মধ্যেই জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নিরভ, তার স্ত্রী, নিশাল ও মেহুল দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য