শোক, স্তব্ধতা, প্রার্থনা, মোমবাতি প্রজ্জ্বালন আর ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে ফ্লোরিডার স্কুলে নিহতদের স্মরণ করেছেন হাজারো মানুষ। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পার্কল্যান্ডে পাইন ট্রেইলস পার্কে জড়ো হয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিস্থিতির।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পার্কল্যান্ডে মারজোরি স্টোনম্যান ডগলাস হাই স্কুলে ঢুকে পড়া বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়। পরে শিক্ষার্থীদের ভিড়ে মিশে পালিয়ে যায় হামলাকারী। পরে নিকোলাস ক্রুজ নামের ওই সন্দেহভাজনকে একটি রাস্তা থেকে আটক করা হয়। ওই স্কুলের সাবেক ছাত্র সে। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে স্টোনম্যান ডগলাস হাই স্কুল থেকে ১৯ বছরের ওই তরুণকে এক সময় বহিষ্কার করা হয়েছিল। বুধবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে ১৪ জন শিক্ষার্থী এবং ৩ জন শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার নিহতদের স্মরণে পার্কল্যান্ডে পাইন ট্রেইলস পার্কে জড়ো হন হাজারো মানুষ। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কিছুক্ষণের জন্য পালন করা হয় নীরবতা। থমথমে নীরবতার মধ্যে নিহতদের নাম পড়ে শোনানো হয়। সেসময় কেউ কেউ ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন। স্মরণ অনুষ্ঠানে স্কুলের পোশাকের আদলে কেউ কেউ লাল রংয়ের পোশাক পরে এসেছিলেন। কারও কারও হাতে ছিল ন্যায়বিচার আর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড। আবার কেউ কেউ নিহদের শ্রদ্ধা জানাতে নিয়ে এসেছিলেন ফুল।

বৃহস্পতিবার পুলিশের গ্রেফতারি প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার সময় ক্রুজ একটি কালো ব্যাগ ও একটি ব্যাকপ্যাক বহন করছিলো। সেখানে ম্যাগাজিন রাখা ছিল। বুধবার দুপুর ২টা ১৯ মিনিটের দিকে একটি উবারে করে মারজোরি স্টোনম্যান ডগলাস হাই স্কুলে পৌঁছায় ক্রুজ। এরপর আধা স্বয়ংক্রিয় এআর-১৫ রাইফেল বের করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। একটি ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় পাঁচটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদেরকে গুলি করে সে। পরে আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে থাকা শিক্ষার্থীদের ভিড়ের সঙ্গে মিশে পালিয়ে যায় ক্রুজ। স্কুল এলাকা থেকে পালানোর পর ওয়ালমার্টের দিকে যায় সে এবং পথে পানীয় কেনে। ম্যাকডোনাল্ডেও থামে ক্রুজ। বেলা ৩টা ৪১ মিনিটের দিকে একটি আবাসিক এলাকার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ক্রুজকে গ্রেফতার করা হয়।

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ গোষ্ঠী এভরিটাউন ফর গান সেফটি’র হিসাব অনুযায়ী, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল প্রপার্টি লক্ষ্য করে বন্দুক হামলা হয়েছে ১৮ বার। এর মধ্যে আটটি ঘটনায় দেখা গেছে স্কুল প্রপার্টিতে গুলি ছোড়া হলেও তাতে কেউ হতাহত হয়নি। দুটি ঘটনায় বন্দুকধারীরা আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া পার্কল্যান্ডের স্কুলে হামলা হওয়ার পূর্ববর্তী সপ্তাহগুলোতে আরও ৭টি হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এক মাসেরও কম সময় আগে ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী কেন্টাকির একটি স্কুলে গুলি ছুড়তে শুরু করলে দুই শিক্ষার্থী নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়। ফেব্রুয়ারির শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলসের এক শিক্ষার্থীর মাথায় গুলি ছোড়া হয়। আর আরেকজন হাতে গুলিবিদ্ধ হন। এক শিক্ষার্থীর ব্যাকপ্যাকে লুকিয়ে রাখা বন্দুকে হঠাৎ করে চাপ পড়ে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত ছয় সপ্তাহে সংঘটিত বাকি হামলাগুলো ক্ষয়ক্ষতির দিক দিয়ে ছোটখাটো ছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য