ভারতের রাষ্ট্র পরিচালিত দ্বিতীয় ‍বৃহত্তম ব্যাংকের এক শাখাতেই একশ ৮০ কোটি ডলার জালিয়াতির খবর পাওয়া গেছে।

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের (পিএনবি) মুম্বাই শাখার কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে কয়েকটি কোম্পানি এ জালিয়াতি করেছে বলে অভিযোগ।

আর্থিক অপরাধ দমনে নিয়োজিত সরকারি সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডাইরক্টেরট ভারতের ব্যাংকিং সেক্টরে সংঘটিত সবচেয়ে বড় এ জালিয়াতির ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, খবর বিবিসির।

জালিয়াতির এ পরিমাণ পিএনবির বাজার মূল্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এবং গত বছরের শেষ তিন মাসের লাভের ৫০ গুণ।

প্রতারণামূলক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাবশালী কয়েকজন গ্রাহক উপকৃত হয়েছেন বলে দাবি ব্যাংকটির। এই প্রতারণা অন্য ব্যাংকগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ব্যাংকিং খাত সাধারণের আস্থা হারাতে পারে বলেও আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

জালিয়াতির খবর জানাজানি হওয়ার পর ব্যাংকটির শেয়ার মূল্য ১০ শতাংশেরও বেশি পড়ে গেছে।

পিএনবি মুম্বাইয়ের গহনা ব্যবসায়ী নিরভ মোদীর নামেও জালিয়াতির একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

এতে বলা হয়েছে, মুম্বাই শাখার সহ ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগসাজশে নিরভ ও আরও পাঁচজন ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন।

ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। এরই মধ্যে নিরভের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অভিযানও চালানো হয়েছে।

রয়টার্স লিখেছে, গত ২৯ জানুয়ারি পিএনবি মুম্বাই শাখার এক কর্মকর্তা তিন কোম্পানি ও চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ২৮০ কোটি রুপি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন।

চার ব্যক্তির মধ্যে নিরভ ছাড়াও রত্ন বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান গীতাঞ্জলি জেমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহুল চোকসিও আছে।

জালিয়াতির সঙ্গে ব্যাংকের দুই কর্মচারী জড়িত ছিলেন বলেও জানায় পিএনবি।

বুধবার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত এক তথ্যে ব্যাংকটি জানায়, মুম্বাই শাখায় জালিয়াতি ও অনুমোদিত নয় এমন লেনদেনের অংক প্রায় ১৭৭ কোটি ডলার। জালিয়াতির এ পরিমাণ ভারতের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অপরিশোধিত ঋণের ভারে এমনিতেই জর্জরিত ভারতের রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্যও জালিয়াতির ঘটনা নতুন সংকটের দ্বার উন্মোচন করবে, টেনে ধরবে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির অগ্রগতির লাগাম।

রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর দায় পরিশোধে অতি সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ১৪শ কোটি ডলার সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য