সিরিয়ার আফরিন এলাকায় মার্কিন সমর্থিত কুর্দি বাহিনী ওয়াইপিজি’র বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে কথা বলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার প্রায় তিন ঘণ্টার আলোচনায় সিরিয়ায় তুরস্কের মুল উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেন এরদোয়ান। উঠে আসে ইরাক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক ঘটনাবলী।

ইরানি সংবাদমাধ্যম পার্স টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফরিনে চলমান অভিযান নিয়ে যখন দুই ন্যাটো সদস্যের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজমান অবস্থাতেই এ বৈঠক হলো।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দু দেশের মধ্যে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। সূত্রটি জানায়, তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে রুদ্ধদ্বার এ বৈঠক।

ওই সূত্র জানায়, বৈঠকে টিলারসনকে এরদোয়ান সিরিয়ায় তার মূল উদ্দেশ্য ও অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, এরদোয়ান ও টিলারসনের বৈঠক ‘ফলপ্রসূ ও খোলামেলা’ ছিল।

১৯ জানুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার সিরিয়া সীমান্তবর্তী আফরিন ছিটমহলে কুর্দি বিদ্রোহীদের ওপর হামলা শুরু করে তুরস্ক। দেশটি বলছে, তারা শহরটিকে সন্ত্রাসীদের করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেবে না। আর তা নিশ্চিত করতেই হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে সিরিয়ার তুরস্ক সীমান্তবর্তী এলাকায় কুর্দি বিদ্রোহীদের নিয়ে শক্তিশালী সীমান্তরক্ষী বাহিনী গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আইএসবিরোধী জোটের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, কুর্দি সমর্থিত এসডিএফের ৩০ হাজার সদস্য নিয়ে ওই বাহিনী গঠন করা হবে।

তুর্কি বাহিনীর এই অভিযানে সিরিয়ার জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ আরও বেশি জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুর্দি ওয়াইপিজি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এই হামলা ট্রাম্প প্রশাসনকে ন্যাটোভুক্ত তুরস্কের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গত অক্টোবরে আইএসের কাছ থেকে রাক্কা শহর দখলমুক্ত করতে ওয়াইপিজি যু্ক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীকে সহায়তা করেছে। বিপরীতে সিরিয়ায় কুর্দিদের উত্থানকে আইএসের মতোই ভয়ঙ্কর হিসেবে বিবেচনা করে আসছে তুরস্ক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য