রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, কাতারের সঙ্গে সংকট জিইয়ে রেখে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আসবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টায়ও এটা কোনও কাজে আসবে না। বুধবার সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদের সঙ্গে এক ফোনালাপে এসব কথা বলেন পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের দফতর ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে দুই নেতার এই ফোনালাপের কথা জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।

ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, কাতার ইস্যু ছাড়াও সিরিয়া পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন দুই নেতা।

ফোনালাপে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত সামরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন পুতিন ও সালমান।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব বলয়ে থাকা সৌদি আরবের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে যোগাযোগ বেড়েছে রাশিয়ার। গত অক্টোবরে রাশিয়া সফর বাদশাহ সালমান। এ সময় তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই দেশের মধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ও সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ তুলে ২০১৭ সালের জুনে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয় সৌদি জোট। দেশটির বিরুদ্ধে স্থল, নৌ ও বিমান অবরোধ আরোপ করে তারা। সৌদি জোটের কাতারবিরোধী এ অবরোধে দেশটির পাশে দাঁড়ায় রাশিয়ার মিত্র হিসেবে পরিচিত তুরস্ক ও ইরান। সর্বশেষ বুধবারের ফোনালাপেও সৌদি জোটের কাতারবিরোধী অবরোধ নিয়ে কথা বলেন পুতিন।

এর আগে কাতারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন মোহাম্মদ আল আতিয়াহ অভিযোগ করেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত গত বছরের জুনে কাতার দখল করতে চেয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

কাতারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, দোহার উপসাগরীয় প্রতিবেশীরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে সবধরনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাদের এই দখলের উদ্দেশ্য কাতার বানচাল করে দিয়েছে। আতিয়াহ বলেন, ‘তারা সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছিল। আমরা তা ব্যর্থ করে দিয়েছি।’

কাতারি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তারা উপজাতিদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তারা সবগুলো মসজিদকে আমাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগিয়েছে। এরপর তারা নিজেদের অনুগত কয়েকজনকে সামনে নিয়ে এসে আমাদের নেতাদের স্থলাভিষিক্ত করার চেষ্টা করে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য