কোনও অভিযোগ গঠন এবং বিচার প্রক্রিয়া ছাড়াই ইসরায়েলি কারাগারে আটক থাকা ৪৫০ জন ফিলিস্তিনি এবার বর্জন কর্মসূচি শুরু করেছেন। ইসরায়েলের আইনি ব্যবস্থা ও সামরিক আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রশাসনিক আটক নীতি হলো হলো ইসরায়েলের একটি অস্পষ্ট আইনি প্রক্রিয়া, যার আওতায় অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের আটক করতে ব্যবহার করা হয়। এর আওতায় কোনও ধরনের অভিযোগ ও বিচার ছাড়াই অনির্দিষ্টকালের জন্য ফিলিস্তিনিদেরকে বন্দি করা হয়।

কথিত ‘গোপন প্রমাণের’ ভিত্তিতে এ গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অভিযোগ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের আটকের সংখ্যা বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে অনেক ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার এ ধরনের আটকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ঘোষণা করেছেন বিভিন্ন জায়গায় বন্দি ৪৫০ ফিলিস্তিনি। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন: ‘প্রশাসনিক আটক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মূল জায়গা হলো ইসরায়েলি আইনি ব্যবস্থা বর্জন করা।’ ইসরায়েলি প্রশাসনিক আটক নীতির বিরুদ্ধে তাদের এ পদক্ষেপ ‘সম্মিলিত ও সর্বসম্মতিক্রমে’ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।

ফিলিস্তিনি বন্দিরা আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের জনগণের উপর, তাদের ক্ষমতার উপর, প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের উপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখি যে এ লড়াইয়ে তারা আমাদের একা রাখবে না।’

প্রশাসনিক আটকের ইস্যুটি যত দ্রুত সম্ভব আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে উত্থাপনের জন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকেও আহ্বান জানিয়েছেন বন্দিরা।

রামাল্লাহভিত্তিক বন্দিদের অধিকার আন্দোলনের সংগঠন আদামিরের পরিচালক সারাহ ফ্রান্সিস জানান, কারাবন্দিদের এ পদক্ষেপের তিনটি ধাপ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রথমত পুনর্বিবেচনার শুনানি বর্জন করা; যার আওতায় জাতীয় নিরাপত্তাজনিত হুমকির কথা বলে আটককে বৈধতা দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত আপিল আদালত বর্জন করা। যা মূলত সামরিক আদালত। এখানে আইনজীবীরা পুনর্বিবেচনামুলক সিদ্ধান্তের জন্য আপিল করেন। সর্বশেষ ধাপটি হলো সাংবিধানিক আদালতে আপিল করার সুযোগ বর্জন করা।’

আল জাজিরা জানায়, বর্জন কর্মসূচি চলাকালীন বন্দিরা পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন কিনা তা অনিশ্চিত। তাদেরকে নির্জন কারাবাসে পাঠানোরও ঝুঁকি রয়েছে। আদালতের শুনানিতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে তাদেরকে জোরপূর্বক স্থানান্তরও করা হতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করে বন্দিদের উপস্থিতি ছাড়াই শুনানি চালিয়ে যেতে পারে ইসরায়েলি আদালত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য