ইব্রাহীম খলিল (সোহাগ), কাহারোল থেকেঃ আদিকালে যে নারীরা কৃষি কাজের সূচনা করেছিলেন, সেই নারীরা আজও সম্পৃক্ত আছেন কৃষি কাজের সঙ্গে। কেবল কৃষি কাজই নয়, দিনের পর দিন বেড়েছে নারী শ্রমিকদের কর্ম পরিধি, শুধু বাড়েনি পারিশ্রমিক তাদের এবং কি মুজুরী ক্ষেত্রে রয়েছে অনেক বৈষম্য। নানা অবহেলার মধ্যেও পরিবর্তনশীল হয়ে বেঁচে না থেকে স্বাবলম্বী হয়ে বেঁচে থাকার তাগিদেই নারীরা বিভিন্ন কাজের সঙ্গে আজ যুক্ত হতে দেখা যাচ্ছে।

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নারীরা কৃষি কাজের পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, ধানের মিল চাতাল, হোটেল-রেস্তোরা, ইট ভাঙ্গা, এমন কি নির্মাণ শ্রমিকের কাজও করছেন এমন অনেক আছেন যারা বিধবা অথবা স্বামী পরিত্যক্তা। তারা খেয়ে পড়ে বাঁচতে বাধ্য হয়ে যুক্ত হচ্ছেন শ্রম বিক্রির সঙ্গে। কিন্তু এ শ্রম বিক্রি করতে গিয়ে তারা নানা রকমের অবহেলার স্বীকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত, সেই সঙ্গে বঞ্চিত হচ্ছে উপযুক্ত পারিশ্রমিক থেকেও।

উপজেলার ঈশানপুর গ্রামের বাঞ্জারামের স্ত্রী শেফালী রানী রায়,সরঞ্জা গ্রামের লক্ষী রানী রায়সহ অনেক নারী শ্রমিক জানান, সংসারে বাড়তি স্বচ্ছলতার আশায় সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত কৃষি জমিতে কাজ করি। প্রতিদিন পারিশ্রমিক হিসাবে মজুরি পান ১৮০ টাকা থেকে ২১০ টাকা পযর্ন্ত। একজন পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে অর্ধেক টাকা পান। নারী শ্রমিকদের ন্যায্য মুজুরী হতে বঞ্চিত করা হয়।

একই কথা বললেন, ঈশানপুরের শান্তি হেমরম, পুরুষের সঙ্গে সমান তালে একই কাজ করলে পুরুষ শ্রমিকেরা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন ৩৫০ টাকা থেকে ৪২০ টাকা, আর আমরা পাচ্ছি ২১০ টাকা । শাপলা রানী রায় বলেন স্বামীর সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অভাব অনটনের মধ্যে দিন পার করছিলাম, একদিন পাশের বাড়ি গীতা রানী রায় বলেন, আমাদের সঙ্গে মাঠে কাজ করতে চলো, ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তায় অন্য মানুষের কৃষি জমিতে কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, সমান কাজ করলেও নারী বলে আমাদের কম পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।

এসব নারী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাদের চোখে মুখে ক্ষোভ আর দুঃখের ছাপ পরিলক্ষিত হয়। তারা বার বার বলেন, পুরুষের পাশাপাশি নারীরা সমান কাজ করলেও পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে কেন এত বৈষম্য ?

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য