আখতারুজ্জামান ঠাকুরগাঁও থেকে: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে একই দিনে একসাথে বিষপানে দুপরবেলা এক মহিলা এবং রাতে তার প্রতিবন্ধী মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুপুরে মেয়ে ও স্ত্রীর চিকিৎসা না করে থানায় ইউডি মামলা করতে আসলে পুলিশ সন্দেহ করে মহিলার স্বামী আজহার“ল ইসলামকে আটক রেখেছে। মঙ্গলবার বিকেলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের নাগেশ্বরবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মহিলার নাম সাবিনা আক্তার (২৫) ও তার প্রতিবন্ধী মেয়ের নাম শারমিন আক্তার (১৫)। তারা দুজনে নাগেশ্বরবাড়ী গ্রামের আজহার“ল ইসলামের স্ত্রী ও কন্যা।

আজহার“ল ইসলামের ২য় কন্যা সাথী আক্তার (১০) ও তার বড় ভাই নুর“ল ইসলামের স্ত্রী জরিনা বেগম জানায়, মহিলাটি প্রায় ২ বছর ধরে শারীরিক অসুস্থ্য থাকাবস্থায় নিজ পিত্রালয়ে গিয়ে বিভিন্ন ডাক্তারের নিকট চিকিৎসা করেও আরোগ্য লাভ হয়নি। অন্যদিকে তার প্রতিবন্ধী মেয়ে শারমিন কথা বলতে পারেনা, চলাফেরা করতে পারে না। অসুস্থ্য শরীর নিয়ে তার সম্পূর্ণ দেখাশুনার পাশাপাশি অভাব অনটনের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে মঙ্গলবার সকালে বাড়ীতে বিষপান করে।

স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেলে মহিলা ও মেয়েটিকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাথ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর বিকেলে মহিলার মৃত্যু হয় এবং মেয়েটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা করে বাড়ীতে এনে ফেলে রাখে। সন্ধ্যার পর মেয়েটির অবস্থা আশংকা জনক হলে তাকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপে¬ক্সে আনা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মেয়েটির মৃত্যু হয়।

মহিলার স্বামী আজহারুল ইসলাম জানায়, আমাকে স্থানীয় লোকজন থানায় বিষয়টি অবগত করার কথা বললে আমি থানায় চলে আসি। আমার শ্বশুড়বাড়ীর লোকজনের অভিযোগের কারণে আমাকে আটক করা হয়েছে।

মেয়ের ভাই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, আমার বোন ও বোনের মেয়ে পরিকল্পিত ভাবে বিষপান করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবী জানাচ্ছি।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, লাশ দুটো উদ্ধার করে ময়না তদšে—র জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পেলে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া নেবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য