সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে ও ভুয়া প্রতিবেদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও রাশিয়া হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা।

সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির এক বার্ষিক শুনানিতে তারা নির্বাচনকে ঘিরে রুশ তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কার কথা জানান বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

গোয়েন্দা প্রধানদের এ শঙ্কার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ বিষয়ক ধারণার স্পষ্ট বিরোধ দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। দায়িত্ব পাওয়ার পর ট্রাম্পই এ গোয়েন্দা প্রধানদের নিয়োগ দিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার কংগ্রেসনাল কমিটির শুনানিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক ড্যান কোটস বলেছেন, রাশিয়া ও অন্যান্য বিদেশি শক্তি চলতি বছর এবং তার পরেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

এই পদ্ধতিতে দুই বছর আগের মতো এবারও যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ক্ষতিতে সফলতা আসবে, এটাই মস্কোর ধারণা বলে মন্তব্য তার।

রাশিয়া যে ২০১৬-র নভেম্বরের নির্বাচনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল সে বিষয়ক তথ্যপ্রমাণ দেখার কথাও জানান কোটস। ওই সময় রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলোর অবস্থানও বিপন্ন হয়ে পড়েছিল বলে দাবি তার।

“সত্যি কথা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের মুখে আছে,” বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হুমকি নিয়ে সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির বার্ষিক শুনানিতে বলেন কোটস।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন,এ গোয়েন্দা প্রধানের পর্যালোচনার সঙ্গে স্পষ্টতই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ সংক্রান্ত ভাবনার মতভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেওয়া ট্রাম্প মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখে আসছেন।

নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্বকালের প্রথম বছরের পুরোটা সময়ই এ অভিযোগের কালো ছায়া তাকে ঘিরে ছিল। তবে শুরু থেকেই নির্বাচনী প্রচারের সময় তার শিবিরের সঙ্গে মস্কোর আঁতাতের সম্ভাবনাও নাকচ করে আসছেন তিনি।

ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হ্যাকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার কথা বলে আসছে।

এ নিয়ে কংগ্রেস কমিটির পাশাপাশি মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্তও চলছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথম থেকেই মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ট্রাম্পও পুতিনের কথাতেই সমর্থন দিয়েছেন।

“অতীতের চেষ্টাকে সফলতাই মনে করে রাশিয়া, যে কারণে ২০১৮-র মধ্যবর্তী নির্বাচনকেও তারা প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য বানানোর সুযোগ হিসেবে দেখছে,” বলেন কোটস।

‘ধারাবাহিক ও বিভ্রান্তিকর সাইবার অপারেশনের’ মাধ্যমে ‘নির্বাচনকে ব্যবহার করে’ যুক্তরাষ্ট্র ও এর ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলোর ‘গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত’ করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন এ গোয়েন্দা পরিচালক।

কী কী উপায়ে রাশিয়া এ বছরের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে সে সম্বন্ধেও ধারণা দিয়েছেন তিনি।

“তারা (রাশিয়া) প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গোপন কর্মকাণ্ড, সহানুভূতি উদ্রেককারী ব্যক্তি এবং অন্যান্য উপায় ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের প্রভাবের তীব্রতা বাড়ানোর চেষ্টা করবে,” বলেন কোটস।

রাশিয়ার হ্যাকিং মোকাবেলায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কিছু করছে কিনা, শুনানিতে সিনেটরার গোয়েন্দা প্রধানদের কাছে এ বিষয়েও জানতে চান বলে খবর রয়টার্সের।

উত্তরে সিআইএর পরিচালক মাইক পম্পেও এবং এফবিআইয়ের পরিচালক ক্রিস রে জানান, প্রতিক্রিয়া হিসেবে সুনির্দিষ্ট ও উল্লেখ করার মতো কাজ চলছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য