ইসরায়েল সীমান্তে সহিংসতা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে দেশটির সার্বভৌমত্বের অধিকারের প্রতি ‘জোরালো’ সমর্থন জানিয়েছে ওয়াশিংটন। সিরিয়ায় শনিবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের একটি জঙ্গিবিমান বিধ্বস্তের পর এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের সেনারা সিরিয়া থেকে যাত্রা করা ইরানের একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। একইসঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য তাদের ড্রোন বিধ্বস্তের খবর নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের ওই দাবিকে ‘মিথ্যাচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তেহরান।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইসরায়েলের আকাশে ড্রোন ব্যবহার করে আগুন নিয়ে খেলছে ইরান। এজন্য তেহরানকে কড়া মূল্য দিতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতি নিজ দেশের জোরালো সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হেদার নোয়ার্ট। তিনি বলেন, ইরানের দিক থেকে হিসাব কষে হুমকি বৃদ্ধি এবং ক্ষমতা ও আধিপত্যের প্রতি তার উচ্চাকাঙ্খা এ অঞ্চলের মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

বিবৃতিতে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বলিষ্ঠ মিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর ইরানের হুমকি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।

হেদার নোয়ার্ট বলেন, আমরা ইরান ও তার মিত্রদের উত্তেজনামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের আধিপত্যের রাজনীতিতে ইসরায়েল ও ইরানের অবস্থান পরস্পরের বিপরীতে। সৌদি-ইসরায়েল মৈত্রী মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির অনুকূলে। ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি নোহা আল বালাউয়ি নামের এক নারী অ্যাক্টিভিস্টকে আটক করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিপরীতে ইরানের অবস্থান মার্কিন আধিপত্যবাদ বিরোধী। ইসরায়েল সবসময়ই তাদের ওপর ইরানি হামলার আশঙ্কার কথা প্রচার করে আসছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত যে কোনও সময় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দেন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য