কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ব্যস্ত সময় পাড় করছে কৃষকরা। ইতোমধ্যে এবারে ২১,৩২০ হেক্টর আবাদি জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।

আর এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে লক্ষ্যে পুরোদমে মাঠে কাজ করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। থেমে নেই স্থানীয় কৃষকরাও। কয়েকদিন আগে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বীজতলার চারাগুলো ঠিকমত বাড়তে না পারায় এবং সময় মতো তা রোপনের উপযোগী না হওয়ায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে চারা লাগাতে খানিকটা সময় পিছিয়েছে। এখন তাপমাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক ও চারাগুলো রোপনের উপযোগী হওয়ায় যেন দম ফেলবার সময় নেই স্থানীয় কৃষকদের।

চারিদিকে মৌসুমী উৎসব মুখর পরিবেশে কৃষকরা এখন মাঘের কনকনে শীত উপেক্ষা করে পাখি ডাকা ভোরে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরন নিয়ে ছুটে চলছেন জমি চাষে, কেউবা বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করতে, আবার কেউবা চারা লাগাতে। আর এভাবেই নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে কাদা মাটিতে মৌসুমী স্বপ্ন বুনতে বুনতে সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে বিকেল, তারপর এক সময় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। কৃষক নামে কালো বর্ণের সোনার মানুষগুলোর কষ্টের জীবনে।

ব্যাপারীটারী গ্রামের মন্টু, জাহাঙ্গীর, মইনুল, ফজলু ধনিরামপুরের মালেক আফছার, সিরাজুল, নুর হোসেন, সাতানা গ্রামের রফিকুল ফরিদুল, মান্নান সহ স্থানীয় অনেক কৃষকেই তেল-সারের বর্তমান বিক্রয় মুল্যে স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন-আবাদের ফলন এবং বিক্রিতে ভাল দাম পেলে শীতের কথা মনে থাকেনা, এত খরচাপাতি কষ্ট করে যদি ফলন ঠিকমতো না হয়, আর যদি গতবারের মতো ক্ষেতে ছত্রাক ধরে তাহলে আমাদের মরি যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। সেই সাথে তারা ফসলকে সকল ধরনের রোগবালাই থেকে মুক্তি এবং ভালো ফলনের জন্য কৃষি বিভাগ থেকে সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে রোগবালাই মুক্ত ফসলের ভালো ফলনের আশায় আমরা যথা সময়ে সকল কৃষকের মাঝে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জ হবে বলে আশা রাখছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য