মালদ্বীপের বর্তমান পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা জানাতে ‘বন্ধু রাষ্ট্রগুলোতে’ দূত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনের কার্যালয় থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। জানানো হয়, চীন, পাকিস্তান ও সৌদি আরবে দূত পাঠানো হবে।

মালদ্বীপে বাইরের শক্তি হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়বে বলে চীনের সতর্কতার কয়েক ঘণ্টা পরই এ ঘোষণা এলো। তবে আলোচনার জন্য মালদ্বীপের ‘বন্ধু’ তালিকায় ভারতের নাম নেই বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া একটি ঐতিহাসিক আদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম মুয়াজ আলি জানান, সংবিধানের ২৫৩ অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ১৫ দিনের জন্য দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট।

রাষ্ট্রপ্রধানের ভাষ্য, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নির্বাহী ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। জরুরি অবস্থা জারির পর মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত আইনে কঠোরতা আনা হয়।

গ্রেফতার হন প্রধান বিচারপতি আব্দুল্লাহ সাঈদ ও বিচারপতি আলি হামিদ। শুরু থেকেই সংকট নিরসনের ব্যাপারে ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আসছে মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট।

মঙ্গলবার ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মানতে মালদ্বীপ সরকারের অস্বীকৃতিকে ‘বিরক্তিকর’ বলে উল্লেখ করা হয়। বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, মালদ্বীপে চলমান ঘটনাপ্রবাহে কড়া নজর রাখছে ভারত।

আর চীনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে বলা হয়, মালদ্বীপের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে বহির্বিশ্ব হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আর এ সতর্কতা প্রদানের কয়েক ঘণ্টা পরই মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে দেওয়া এক ঘোষণায় বলা হয়, তাদের দূতরা ‘মালদ্বীপের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো’ সফর করবে এবং ‘বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ তথ্যগুলো’ জানাবে।

মালদ্বীপের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন চীন ও সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ। দুই দেশই মালদ্বীপে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ শিপিং লেনগুলোর নিকটে অবস্থানের কারণে চীনের কাছে মালদ্বীপের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। অন্যদিকে মালদ্বীপে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে চায় ভারত।

সশস্ত্র বাহিনী সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার টাইমস ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, ভারতীয় বাহিনী প্রতিবেশি দ্বীপরাষ্ট্রটির সব বিষয়ে কড়া নজর রাখছে। আর যেকোনও ধরনের ঘটনার মোকাবিলা ও সংক্ষিপ্ত নোটিশের মধ্যে সেখানে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধ জাহাজ সব সময় দেশের দক্ষিণ জলসীমায় টহল দিচ্ছে। প্রয়োজন হলেই তা মালদ্বীপের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।

এর আগেও মালদ্বীপে অবিযান চালিয়েছিল ভারত। ১৯৮৮ সালে মালদ্বীপের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দুল গাইয়ুমের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান দমনের জন্য তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়েছিল ভারত। সে সময় রাজীব গান্ধি সরকারের নির্দেশে ‘অপারেশেন ক্যাকটাস পরিচালনা করা হয়। ওই অভুত্থানে মালদ্বীপের আবদুল্লাহ লুথুফি ও শ্রীলঙ্কান তামিল টাইগাররা জড়িত ছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য