সাবেক দুই স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ আনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম এক শীর্ষ উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন।

পদ ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্পের উপদেষ্টা রব পোর্টার বলেছেন, তার বিরুদ্ধে করা ‘ভয়াবহ অভিযোগগুলো নির্জলা মিথ্যা’।

৪০ বছর বয়সী এ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তার দুই স্ত্রী কলবি হোল্ডারনেস ও জেনিফার উইলোবি মৌখিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন বলে খবর বিবিসির।

ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল প্রথম এ অভিযোগের কথা জানায়। যেখানে প্রথম স্ত্রী হোল্ডারনেস ২০০৩ সালে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে মধুচন্দ্রিমা উদযাপনের সময় পোর্টার তাকে লাথি মেরেছিলেন বলে অভিযোগ করেন।

কয়েক বছর পর ইতালির ফ্লোরেন্সে ছুটি কাটাতে গেলে সেখানেও স্বামী তার মুখে ঘুষি মারেন বলে দাবি হোল্ডারনেসের, যিনি পেশায় একজন সরকারি বিশ্লেষক ।

স্বামীর নির্যাতনের প্রমাণস্বরূপ নিজের কালো চোখের ছবিও গণমাধ্যমে সরবরাহ করেছেন তিনি।

পরের স্ত্রী উইলোবির সঙ্গে পোর্টারের সংসার শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে; টিকেছিল ২০১৩ পর্যন্ত।

অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তা হিসেবে পরিচিত উইলোবি তার ওপর চালানো পোর্টারের নির্যাতন নিয়ে ‘হোয়াই আই স্টেইড’ নামে ব্লগও লিখেছেন।

উইলোবি জানান, ২০১০ সালের জুনে ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ার বাড়ির দরজার কাঁচে পোর্টার ঘুষি মারার পর তিনি স্বামীর কাছ থেকে সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

সাবেক স্ত্রীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পোর্টার।

“আমার তোলা যে ছবিটি গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে তা ১৫ বছরের পুরনো, এর পেছনে যে সত্য লুকানো তা অভিযোগর ধারেরকাছেও নেই। এসব মিথ্যা অভিযোগের ব্যাপারে আমি স্বচ্ছ ও সৎ। তবে এ ধরনের সংঘবদ্ধ নোংরা প্রচারণার পর আমি আর সরকারি কাজে নিয়োজিত থাকছি না,” লিখিত বিবৃতিতে বলেন পোর্টার।

বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স ওই বিবৃতিটি পড়ে শোনান।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পদে যোগ দেওয়ার সময় পোর্টার নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বলেও জানানো হয়েছে।

অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখার সময় এফবিআই পোর্টারের সাবেক স্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলার পর এ পরিস্থিতি উদ্ভব হয়েছিল বলে দাবি ডেইলি মেইলের।

প্রেস সেক্রেটারি স্যান্ডার্স অবশ্য এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

“গোয়েন্দা ও আইন শৃঙ্খলায় নিয়োজিত সংস্থার জটিল অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখা হয়। নীতি অনুযায়ীই, আমরা নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিয়ে কোনো ধরণের মন্তব্য করতে পারছি না। স্টাফ সেক্রেটারির দায়িত্বে রব পোর্টার বেশ কার্যকর ছিলেন। প্রেসিডেন্ট এবং চিফ অব স্টাফ তার দক্ষতা ও কর্মকাণ্ডে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন,” বলেন স্যান্ডার্স।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রোডস স্কলার পোর্টার ট্রাম্পজামাতা জারেড কুশনারের সঙ্গে হার্ভার্ডেও পড়াশোনা করেছেন।

হোয়াইট হাউসে পোর্টারের দায়িত্ব ছিল প্রেসিডেন্ট ও তার চিফ অব স্টাফ জন কেলির সঙ্গে কাজ করা।

পোর্টার সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর হোপ হিকসের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়েছেন বলে ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য