সুবল রায়, বিরল (দিনাজপুর) থেকেঃ দিনাজপুরের বিরল উপজেলা কৃষি ক্ষেত্রে খোরা একটি প্রধান সমস্যা। প্রতি বছর গৃষ্ম কালে নদী নালা জল শুন্য হয়ে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়। জলের অভাবে কৃষকরা ফসল ফলাতে হিমসিম খায়। উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সব কটি নদীর একই অবস্থা থাকলেও নদীগুলি খননের কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা সরকার। এতে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে কৃষকরা, মৎস্য জিবীরা বদলাচ্ছে পেশা। স্থানীয় ভাবে অর্থনীতি ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে যার প্রভাব দেশের জাতীয় অর্থনীতিকে দুর্বল করে ফেলছে।

নদী সংস্কারের অভাবে দিনাজপুর জেলার বুক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক নদ-নদী। পুর্ণভবা, টাংগন ও বিরলের তুলাইসহ নদী ভরাট হয়ে বালু চরে পরিণত হয়েছে। কোন কোন নদীর বুকে বালু জমে ভরাট হয়ে চলছে চাষ আবাদ। নদী বুকে ধান, ভুট্টাসহ নানা ফসল আবাদ হচ্ছে। আর নদীর ২পাড়ে হাজার হাজার হেক্টর জমি জলের অভাবে চাষ করতে হিমসিম খাচ্ছে কৃষকরা।

সেচের পানি ক্রয় করে জমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে প্রচুর অর্থ ব্যায় হচ্ছে কৃষকদের। অন্যদিকে জলের অভাবে মাছ শুণ্য হয়ে পরছে এলাকা। মৎস্য জীবিরা পেশা বদল করে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। জলের অভাবে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে পরিবেশের উপর। নদীর পাড়ের মানুষের মধ্যে চলছে হাহাকার অবস্থা।

বিরল মুলত কৃষি প্রধান এলাকা। এখানকার কৃষকরা দিনাজপুরে খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে দেশের শস্য ভান্ডারে অবদান রাখে। এখানকার নদী বুকে এক সময় চলতো বড় বড় পাল তোলা নৌকা। দেশী-বিদেশী বনিকরা এখানে ব্যবসার জন্য আশা যাওয়া করতো নৌকায়। তা সবি এখন ¯^প্নের মতো ইতিহাস। সবকটি নদীর মুখের উৎস্য ভারতে হওয়ায় ভারত বাঁধ দিয়ে নদী প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। অপরদিকে দিনাজপুরে বৃষ্টি পাতের পরিমান কম হওয়ায় নদীগুলি ক্রমেই ক্ষড়ার সময় জল শুণ্য হয়ে পরে। জেগে উঠে বালু চর। দিনাজপুর ক্ষড়া পিড়ীত এলাকা।

এখানে বার্ষিক বৃষ্টি পাতের পরিমান গড়ে ১৬৫ থেকে ১৭০ মিলিঃমিটার। তাই কৃষি ক্ষেত্রে এই নদী গুলি কোন অবদান রাখতে পারেনা। এই উজেলার মানুষ কৃষি নির্ভরশলি হওয়ায় এখানে নদীর গুরুপ্ত বেশী। আর এলাকার অর্থনীতি কৃষি ভিত্তিক। নদী বুকে বালু সংগ্রহ করার জন্য ট্রাক্টর দাপিয়ে বেরায়। কোথাও হাটুজল এবং কোথাও নালার মতো বালির মধ্যে দিয়ে বৈইতে থাকে নদী। তাই ক্ষড়ার সময় জলের স্থর ১৫ থেকে ২০ ফুট নিচে নেমে যায়। নদী পথগুলি আকা বাকা সর্পিন গতি থাকায় উজান থেকে বয়ে আসা পলিমাটি ও বালু সহজে আটকা পরে জল প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। জল শুন্য নদী কৃষি ক্ষেত্রে কোনই উপকারে আসেনা।

প্রতি বছর নদী সংস্কারের নামে পানি উন্নয়ন বোর্ড যে অর্থ লুটপাট করে তা বন্ধ করা উচিৎ। অবিলম্বে দিনাজপুরের নদী গুলি খনন করে পুর্নজীবিত না করলে এ অঞ্চলের কৃষি ক্ষেত্র ধ্বংস হয়ে যাবে। যার প্রভাব পরবে জাতীয় অর্থনীতিতে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য