ইরাক সরকারের ৬০ জন মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বড় মেয়ে রাঘাদ হোসেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ওই তালিকা হাতে পাওয়ার দাবি করে জানিয়েছে ইসলামিক স্টেট (আইএস), আল কায়েদা ও বাথ পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই তালিকায় রাখা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে বাঘাদ বর্তমানে জর্ডানে বসবাস করেন।

ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগ তুলে ২০০৩ সালে ইরাকে হামলা চালায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট। হামলায় ক্ষমতাচ্যুত হন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। পরে মার্কিন বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর ইরাকের আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় সাদ্দামের রাজনৈতিক দল বাথ পার্টিকে।

ইরাকে মার্কিন হামলার মধ্যে প্রতিরোধ যুদ্ধে নিহত হন সাদ্দামের দুই ছেলে। যুদ্ধের একপর্যায়ে ইরাক ছেড়ে পালিয়ে যান বড় মেয়ে রাঘাদ হোসেনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। বাথ পার্টিকে সহায়তার অভিযোগে ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল রাঘাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

এএফপির হপাতে পাওয়া ইরাক সরকারের তালিকায় ২৮জন আইএস যোদ্ধা, ১২ জন আল কায়েদা ২০ জন বাথ পার্টির সদস্যকে ওই তালিকায় রেখেছে ইরাক সরকার। এছাড়া তালিকায় নিজেদের সংগঠনের সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য, সন্দেহজনক অপরাধ ও সংশ্লিষ্ট ছবিও যুক্ত করা হয়েছে। ওই তালিকায় ইরাকি নাগরিক ছাড়া একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে রয়েছেন লেবাননের নাগরিক মান বাসুর। তবে ওই তালিকায় নেই আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদি। তবে কেনও তার নাম নেই এএফপিকে তার ব্যাখ্যা দেয়নি ইরাক সরকারের।

ইরাক সরকারের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, এই তালিকায় বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে। প্রথমবারের মতো আমরা এই তালিকা প্রকাশ করছি, আর এখন পর্যন্ত আমরা তা গোপন রেখেছিলাম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য