নোবেলজয়ী ইয়েমেনি তাওয়াক্কোল কারমানের সদস্য পদ বাতিল করেছে প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মানসুর হাদির মিত্র দল ইসলাহ পার্টি। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানকে ‘দখলদারদের কর্মকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করার পর তার সদস্য পদ বাতিল করা হয়। মূলত, প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদির সমর্থনেই ইয়েমেনে অভিযান চালাচ্ছে সৌদি জোট।

ইয়েমেনের সাংবাদিক, রাজনীতিক তাওয়াক্কোল আব্দেল-সালাম কারমান আল-ইসলাহ দলের একজন প্রবীণ সদস্য। আরব বসন্ত বিক্ষোভে ভূমিকার জন্য প্রথম ইয়েমেনীয় ও আরবীয় নারী হিসেবে ২০১১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতে নেন তিনি। ওই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহকে উৎখাত করা সম্ভব হয়েছিল।

সম্প্রতি কারমান প্রকাশ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমালোচনা করেন। ইয়েমেনের জনগণের মধ্যে বিভক্তি তৈরির জন্য দেশ দুটিকে দায়ী করেন তিনি। লন্ডনে ওয়ারউয়িক ইকোনমিকস সম্মেলনে কারমান বলেন, ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা হাদিকে নির্বাসনে পাঠানোর পর ২০১৫ সালে সৌদি আরব ও আমিরাত ‘বেপরোয়া রাজনৈতিক হঠকারিতা’য় তাড়িত হয়ে ইয়েমেনে অভিযান চালিয়েছে।

এর আগে এক টুইটে তিনি বলেন, ‘ইয়েমেনে জঘন্য দখলদারিত্ব চালাতে এবং প্রভাব বিস্তার করতে সানায় হুথিদের অভ্যুত্থানের ফায়দা নিয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

কারমানের এ বক্তব্যের পর তার দায় অস্বীকার করে নিজস্ব ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি দেয় ইসলাহ পার্টি। বলা হয়, ‘তাওয়াক্কোল কারমানের বক্তব্য ইসলাহ পার্টি এবং এর নীতিকে প্রতিনিধিত্ব করে না এবং তা দলের অবস্থানের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাছাড়া মহাসচিব দল থেকে তার সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানার দখল নেওয়ার পর ইয়েমেন ছেড়ে যাওয়া কারমান ইসলাহ পার্টির বক্তব্যের জবাব দিয়ে টুইট করেছেন। ওই টুইটে ইসলাহ নেতাদেরকে রিয়াদ ও আবু ধাবির ‘বন্দি ও দাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইসলাহ পার্টি মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখা হিসেবে পরিচিত। আর এ মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য