আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট থেকে: বেশ কয়েক দিন হলো লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার মিলনবাজার এলাকায় চাঁদা উঠানোর সময় সড়ক দূর্ঘটনায় এক হাতির মৃত্যু হয়েছে। এরপরেও হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি কমছে না। হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি যেন লালমনিরহাটে নিত্য দিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। কিছুতেই কমছে না হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির এই দৌরাত্ম।

প্রতিদিনই এ জেলার হাট বাজার গুলোতে হাতি দিয়ে অভিনব কৌশলে চাঁদা আদায় করছে। এ দৃশ্য চোখে পড়লো শনিবার (৩রা ফেব্রুয়ারি) জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার শিয়ালখোওয়া বাজারে। প্রতি সপ্তাহে চোখে পড়ছে ওই বাজারে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির এমন দৃশ্য। নতুন এই চাঁদাবাজি কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন গ্রাম, হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট এবং পথচারীদের কাছে হাতি দাড় করিয়ে ১০টাকা থেকে ১’শত থেকে ২’শত টাকা আদায় করছে। যদি কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে হাতির মালিক হাতির মাধ্যমে জবরদস্তি করে অর্থ আদায় করছে। আর কেউ টাকা দিতে না চাইলে তার দোকানের জিনিসপত্র ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে।

দেখে মনে হলো হাতিকে টাকা দেয়া যেন এক প্রকার নিয়ম হয়ে গেছে। আরও দেখা গেছে, রাস্তায় বিশাল আকৃতির হাতি থাকার ফলে রাস্তায় তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। এতে চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পথচারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাতিটি বুড়িমারী স্থালবন্ধর থেকে নিয়ে এসে। এরপর লালমনিরহাট সদর থানায় প্রবেশ করবে। এভাবে রাস্তায় হাতি দিয়ে গাড়ি আটকে ও প্রতিটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা আদায় করে। চাঁদাবাজির এই দৌরাত্ম থেকে বাদ পড়ছে না ফুটপাতের সামান্য আয়ের ব্যবসায়ীরাও।

শিয়াল খোওয়া বাজারের চিড়ামুড়ির মিল মালিক আব্দুল মজিদ মাষ্টারসহ এলাকার উৎসুক জনগণের প্রশ্ন, যদি সার্কাস খেলার জন্য হাতিটিকে এ জেলায় আনা হয়, তাহলে জেলার গ্রাম অঞ্চলে কেন ? এটা হাতির সাথে থাকা মালিকের পক্ষে চাঁদাবাজি ছাড়া আর কিছুই না। হাতির পিঠে থাকা ব্যক্তিটি বলেন, আমি ঢাকা থেকে এই হাতিটিকে একটি সার্কাস দলে খেলা দেখানোর জন্য এনেছি। কিন্তু সার্কাস খেলা এখনও শুরু হতে দেরী আছে। তাই এসব এলাকায় এসেছি।

তবে অনেকে তার নাম জানতে চাইলেও তিনি তার নাম প্রকাশ করেনি। উল্লেখ্য: গত (২২ জানুয়ারি) লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার মিলন বাজার এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় একটি বয়স্ক হাতির মৃত্যু হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য