আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে গাইবান্ধায় ভিক্ষুকমুক্তকরণ, ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান নামক একটি ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গাইবান্ধা সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় ০০২০০১৩০৩ এই নম্বরে একটি চলতি হিসাব খোলা হয়েছে। এই হিসাব নম্বরে ৫ ফেব্র“য়ারির মধ্যে জেলার সকল সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারিকে এক দিনের বেতন (মাসিক মুল বেতনের ত্রিশভাগের একভাগ পরিমাণ) উক্ত হিসাবে জমা প্রদান করতে বলা হয়েছে। এই ০০২০০১৩০৩ হিসাব নম্বরে যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান টাকা জমা দিতে পারবেন। ভিক্ষুকমুক্তকরণের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন গাইবান্ধার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ও বিশিষ্টজনরা।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, গাইবান্ধায় ভিক্ষুক রয়েছেন ৬ হাজার ৮৭৮ জন। গত ২১ জানুয়ারি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় গাইবান্ধার ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে ভিক্ষুকমুক্তকরণ, ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান নামক একটি ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত পরদিন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এই ০৫.৫৫.৩২০০.০০০.০০.০০০.১৮.১২০ স্মারক নম্বরের একটি চিঠি প্রকাশ করা হয়।

সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ভিক্ষাবৃত্তি অত্যন্ত অমর্যাদাকর। ধর্মীয় ও আইনের দৃষ্টিকোণে এটি অগ্রহনযোগ্য। তবু সমাজের কিছু মানুষ বিভিন্ন কারণে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত আছেন। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হতে যাচ্ছি। আমাদের স্বপ্ন-সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ। এ অবস্থায় কোন নাগরিকের ভিক্ষাবৃত্তিতে থাকার সুযোগ নেই। বিকল্প কর্মসংস্থান তথা সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা গাইবান্ধা জেলার ভিক্ষুকগণকে পুনর্বাসন করতে চাই।

এ লক্ষ্যে জেলায় ভিক্ষুকমুক্তকরণ, ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান নামক একটি ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। ওই চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, এমতাবস্থায় আপনার ও আপনার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, শিক্ষক ও কর্মচারির (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের অর্থ একত্রে) নিকট হতে এক দিনের বেতন সংগ্রহপূর্বক ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা প্রদানপূর্বক গাইবান্ধা জেলা প্রশাসককে অবহিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

শহরের ডিবি রোডের ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ বাবু বলেন, যারা ভিক্ষার জন্য দোকানে আসেন তাদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ্য ও সবল মানুষ। তারা ইচ্ছা করলেই যে কোন ব্যবসা বা অন্য কোন কাজ করে খেতে পারেন। হয়তো টাকার জন্য সেটা করতে পারছেন না। এজন্য তাদের সাথে বসে সমস্যা চিহ্নিত করে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের এই উদ্যোগ সত্যিই খুব প্রশংসনীয়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, আমরা একটি পরিকল্পনা করেছি কিভাবে অগ্রসর হবো। সেজন্য চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে লিফলেটের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করা হবে। আমাদের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, সেটা সবার জন্য উন্মুক্ত। সেখানে যে কেউ টাকা জমা দিতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকজন ভিক্ষুকের সাথে আমরা আলাদা আলাদা ভাবে বসবো।

তাদের কার কি প্রয়োজন, কার কি অসুবিধা, কিভাবে তাকে সহায়তা করলে তিনি ভিক্ষাবৃত্তি থেকে সরে আসবেন, এগুলো আমরা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে আমরা ধীরে ধীরে পরিকল্পনা করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেব। আমরা চাচ্ছি যে আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এই জেলা পুরোপুরি শতভাগ ভিক্ষুকমুক্ত যাতে হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য