দখলীকৃত পশ্চিম তীরের বুরকিন গ্রামে গ্রেফতারি অভিযানের সময় এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত কিশোরের নাম আহমদ আবু ওবাইদ। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জেনিনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করার পর মারা যায় সে।

৯ জানুয়ারি নাবলুসের একটি ইহুদি বসতি এলাকায় ৩৫ বছর বয়সী ইসরায়েলি রাব্বি রাজিয়েল শেভাহকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পর থেকে সন্দেহভাজন তরুণ আহমেদ জারারকে খুঁজতে বেশ কয়েকটি সহিংস অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ওই ঘটনার সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারে বুরকিনে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছিলো।

সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেন, সে সময় কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। ফিলিস্তিনির পাথর ছুড়লে এবং অগ্নিসংযোগ করলে তাদেরকে ‘অ-প্রাণঘাতী’ সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়; পরে মূল ‘উসকানিদাতা’দের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেন, সন্দেহভাজন তরুণ আহমেদ জারার একটি সামরিক যানের উপর উঠে দাঁড়িয়েছিল এবং এর দরজা খুলে ফেলেছিল। পরে তাকে গুলি করা হয়। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছিল, সেসময় একটি গুলির শব্দ পাওয়া যায় এবং একজন আহতকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

আহমেদ জারার হলেন দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হামাস সদস্য নাসের জারারের ছেলে। অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী আহমেদ জারারকে গ্রেফতার করেছে কিনা সে ব্যাপারে জানা যায়নি। গত মাসেও রাব্বিকে গুলি করার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জেনিন সংলগ্ন একটি শহরে এক ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য