রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ধুু-ধু বালু চরে কৃষিতে আশার আলো দেখছে কৃষকেরা, মিষ্টি কুমড়া ও স্কোয়াশ চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা। চরে উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া ও স্কোয়াশ এলাকার চাহিদা পুরন করে রপ্তানি হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন দপ্তরের সহায়তায় দ্বিতীয় বারের মতো কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর জেগে উঠা ধুঁ-ধুঁ বালু চরে চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন জাতের মিষ্টি কুমড়া ও থাইল্যান্ডের স্কোয়াশ সবজি। এ যেন বালু চরে কৃষকের আশার আলো সবজি চাষে নতুন দিগন্ত।

স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও কৃষিতে লাভজনক মিষ্টি কুমড়া ও থাইল্যান্ডের স্কোয়াশ উপজেলার তালুকশাহবাজ, চর রাজীব ও হরিচরন শর্মা চরে ৬০ হাজার মিষ্টি কুমড়া ও ৩০ হাজার স্কোয়াশ সবজি গর্তে চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে তাক লাগিয়ে দিয়েছে অন্য চরাঞ্চলের হাজারও কৃষক সহ বিভিন্ন জেলার মানুষ কে।

তিস্তার ধুঁ-ধুঁ বালু চর এখন সবুজে ছেয়ে গেছে। চরের কৃষক জানায় আগামী মৌসুমে এর চাষ আরও অনেক অংশে বাড়বে। কাউনিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায় তাদের কারিগরি সহাযতায় উপজেলায় পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুবোল চন্দ্র ও এমদাদুল হক এর তত্বাবধানে দ্বিতীয় বারের মতো ৯০ হাজার টি গর্তে কাশিহরি, দেবগীরি, কালো পাথড়ী, ব্যাংকক-১ জাতের কুমড়া ও থাইল্যান্ড ও হাইব্রীড জাতের স্কোয়াশ চাষ করা হয়েছে। তালুকশাহবাজ গ্রামের ২শ’ জন, হরিচরনশর্মা ও চর রাজীব গ্রামের ৩শ’ জন কৃষক-কৃষাণী কে উদ্বুদ্ধ করে চলতি মৌসুমে মিষ্টি কুমড়া ও স্কোয়াশ চাষ করা হয়েছে।

চাষি নিশি চন্দ্র, শফিকুল ইসলাম, মিন্টু মিয়া, মালা রানী, নিরঞ্জন চন্দ্র জানান বাংলাদেশের শষা জাতীয় এ সবজির স্বাদ অন্যান্য সবজির স্বাদের চেয়ে দ্বি-গুন এবং এর পুষ্টি গুনও অনেক বেশী। ইতোমধ্যে স্কোয়াশ বাজারজাত শুরু হয়েছে। ষ্কোয়াশ এর বাজার মূলত ঢাকায় অনেক বেশী সেখানে প্রতিটি ষ্কোয়াশ বিক্রি হয় ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং ১টি করে মিষ্টি কুমড়া স্থানীয় বাজারে যেটি ৩০/৪০টাকায় বিক্রয় হলেও সেটি ঢাকায় ১শ’ থেকে ১৫০টাকায় বিক্রয় হয়। তারা জানায় ইতো মধ্যেই ঢাকার ব্যবসায়ীরা তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন।

আর স্থানীয় বাজারে দাম একটু কম হলেও এর চাহিদা বেশ ভাল। তবে তারা জানায় ষ্কোয়াশ চাষে ফলনও বেশী হয় এবং এর রোগ বালাই নেই বললেই চলে। চাষিরা তাদের বালূ চরে পতিত জমিতে ষ্কোয়াশ চাষ করতে পেরে এবং সেখান থেকে অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজে পাওয়ায় তারা বেজায় খুশী। কৃষক নিশি চন্দ্র জানায় ৩শ’ গর্তে চাষ করতে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৯হাজার টাকা আশা করছি প্রায় ২৫ হাজার টাকা আয় হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে নভেম্বর মাসে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় চর রাজীবে ৫শ জন কৃষক কৃষাণীর প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে ৯০ হাজার গর্তে মিষ্টি কুমড়া ও ষ্কোয়াশ চাষ করা হয়েছে। থাইল্যান্ড থেকে আমদানী করা বীজ ও প্রয়োজনীয় সার কৃষকদের দিয়ে চাষ শুরু করা হয়। চরে পানির জন্য গর্তে করে পলিথিন বিছিয়ে পানি সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সেচ দেয়া হয়।

রোগ বালাই নেই তাই কীটনাশক ব্যবহারও করতে হয় না বললেই চলে, সে জন্য মিষ্টি কুমড়া ও ষ্কোয়াশ স্বাস্থ্য সম্মত একটি প্রোটিন জাতীয় খাবার। চলতি মৌসুমে মিষ্টি কুমড়া ও ষ্কোয়াশ গত বছরের চেয়ে দ্বিগুন জমিতে চাষ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য