ঋতুর আবর্তে এখন চলছে শীতকাল৷ পাওয়া যাচ্ছে শীতকালীন সুপারফুড বাঁধাকপি৷ স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে উপকারি বলে বিবেচিত পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্যকে সুপারফুড বলাহয়৷ চলুন দেখেনেই বাঁধাকপির সুপারফুড গুণাবলী৷

বাঁধাকপি বা পাতাকপি একটি সবজি যা ব্রাসিকেসি বা ক্রুসিফেরি গোত্রের ব্রাসিকা অলেরাসিয়া প্রজাতির উদ্ভিদ৷

বাঁধাকপির পুষ্টিগুণ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি গবেষণা পরিষেবা বিভাগ প্রদত্ত জাতীয় পুষ্টি ডেটাবেস অনুযায়ী কেটে রান্না করা প্রতি ৭৫ গ্রাম বাঁধাকপিতে আছে ১৭ গ্রাম ক্যালোরি, চার গ্রাম শর্করা যার এক গ্রাম আঁশ এবং দুই গ্রাম স্যুগার, এক গ্রাম প্রোটিন৷ ৭৫ গ্রাম রান্না করা বাঁধাকপি দৈনন্দিন ভিটামিন সি এর চাহিদার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করতে সক্ষম৷

এতে আরও আছে ৮১.৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে, ১১ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ২২ মাইক্রোগ্রাম ফলেট যা ফলিক এসিড বা ভিটামিন বি-৯ নামেও পরিচিত৷ এতে অল্প পরিমাণে রয়েছে ভিটামিন বি৬, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও থায়ামিন যা ভিটামিন বি-১ নামেও পরিচিত৷

বাঁধাকপিতে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যেমন বিটা-ক্যারোটিন, লুটিইন, জিয়াজ্যানথিন, ফ্ল্যাভোনয়েড কেইম্ফেরোল, কুয়ারসেটিন এবং অ্যাপিজেনিন৷ তবে এসব উপাদান সবুজ বাঁধাকপির তুলনায় লাল বাঁধাকপিতে বেশি পরিলক্ষিত হয়৷

বাঁধাকপি রে­­­ডিয়েশন থেরাপি থেকে সুরক্ষা দেয়: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ইঁদুরের উপর পরিচালিত বাঁধাকপি নিয়ে একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে বাঁধাকপি রে­­­ডিয়েশন থেরাপি থেকে সুরক্ষা দেয়৷

ক্যান্সার প্রতিরোধে বাঁধাকপি: বাঁধাকপিতে সালফোরাফেন নামক একটি রাসায়নিক যৌগ রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা দান করে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ মিসৌরি কর্তৃক পরিচালিত এক গবেষণায় দেখাগেছে বাঁধাকপিতে এপিজেনিন নামক একপ্রকার রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে৷ ইঁদুরের উপর এপিজেনিন প্রয়োগ করে একটি বিষয় মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে স্তন ক্যান্সারে অনিয়মিত কোষবিভাজনের ক্ষেত্রে এপিজেনিন এই টিউমারের আকার হ্রাস করতে সক্ষম৷ গবেষকদের দাবি এই এপিজেনিন ভবিষ্যতে ক্যান্সার নিরাময়ের ক্ষেত্রে অ-বিষাক্ত চিকিৎসা হিসেবে ব্যাবহৃত হবে৷

হার্টের সুরক্ষায় বাঁধাকপি: বাঁধাকপির পুষ্টিগুণ বর্ণনায় উল্লেখ করেছি যে এতে ফ্ল্যাভোনয়েড যৌগ বিদ্যমান৷ আমেরিকানজার্নালঅবক্লিনিক্যালনিউট্রিশন এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়৷ এতে আরো বলা হয়েছে যে অল্প পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণও সুফল বয়ে আনতে পারে৷ বাঁধাকপিতে বিদ্যমান পলিফেনল যৌগও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে৷

হজম এবং রোগ প্রতিরোধে বাঁধাকপি: সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখাগেছে বাঁধাকপিতে বিদ্যমান আঁশ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ বাঁধাকপি শরীরে প্রদাহের ঝুঁকিও কমায়৷

এছাড়াও বাঁধাকপি ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং সামগ্রিক মৃত্যুহার কমাতে ভূমিকা পালন করতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়৷

সতর্কতা: আমেরিকা ভিত্তিক মানব স্বাস্থ্য কল্যাণ সম্পর্কিত অনলাইন তথ্য বাতায়ন ওয়েবএমডি এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, মাত্রাতিরিক্ত বাঁধাকপি খাওয়ার কারণে অন্ত্রে গ্যাস বৃদ্ধিপেতে পারে যা পরবর্তীকালে পেট-ফাঁপা বা ব্লটিং এর কারণও হতে পারে৷ অতিরিক্ত বাঁধাকপি খেলে ফুড পয়জনিং হতে পারে৷ এছাড়া বাঁধাকপিতে থায়োসায়ানেট বা রোডানাইড নামক রাসায়নিক যৌগ রয়েছে যা আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড হওয়াকে ত্বরান্বিত করে৷

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য