এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আল জাজিরার দোহাভিত্তিক সংবাদদাতা মাহমুদ হুসেইনকে মিসরে আটক রাখার ঘটনাকে জবরদস্তিমূলক বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে দোহা থেকে মিসরে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার পর আটক হন ৫৫ বছর বয়সী এই সাংবাদিক। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় থেকে অবিলম্বে ওই সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

মাহমুদ হুসেইনের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায় ওয়াশিংটন ভিত্তিক রবার্ট এফ কেনেডি মানবাধিকার গ্রুপ। এর ভিত্তিতেই বিবৃতি দেয় জাতিসংঘের সংস্থাটি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিচার কাজ শুরুর আগে অনির্দিষ্টকাল ধরে আটক রাখার কৌশল ব্যবহার করে স্বাধীন মতপ্রকাশকারীদের দমন করছে মিসরের কর্তৃপক্ষ।

আল জাজিরার আরবি বিভাগের সাংবাদিক হুসেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ভুয়া খবর প্রচার। তবে এসব অভিযোগ আল জাজিরা ও হুসেইনের আইনজীবী বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

হুসেইনকে আটক রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার একটি কারাগারে। বন্দি থাকা অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরটি বলছে, হুসেইনকে বিচারের আগে আটক রাখা মিসরের আইনসম্মত নয়।

বিবৃতিতে খবরে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে অনানুষ্ঠানিকভাবে হুসেইনের বিরুদ্ধে যেসমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে মিসরের কর্তৃপক্ষ তার এক অংশও প্রমাণ করতে পারেনি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশন আটক রাখার আন্তর্জাতিক রীতির প্রতি মিসর সরকারকে সম্মান দেখিয়ে হুসেইনকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য