কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিদ্যূৎ সংকট ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনের অভাবে লোকসানের মূখে পড়েছে শত শত খামারী। বাজারে খদ্যের দাম বেশি হওয়ায় অনেক খামারী তাদের খামার বন্ধ করে দিয়েছে। পোল্ট্রী খামারীদের অদক্ষতা,্ ঋণ সহায়তা ও বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে ধবংসের মুখে পড়েছে উপজেলার পোল্ট্রি শিল্প।

এ পরিস্থিতিতে সহস্রাধিক ক্ষুদ্র, মাঝারী ও প্রান্তিক খামারবন্ধ হওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার শিক্ষিত যুবক-যুবতী খামারী। কোম্পানির তত্বাবধানে কিছু খামার চললেও সেগুলোও লোকসানে পড়ে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে এ উপজেলা গ্রামীন অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১০ বছর আগে উপজেলার গ্রামগঞ্জে শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীরা স্বাভলম্ভি হওয়ার আশায় পোল্ট্রি শিল্পে ঝুকে পড়ে। বিভিন্ন্ এনজিও থেকে ঋণ সহায়তা নিয়ে গড়ে উঠে গ্রাম ভিত্তিক ছোট বড় মাঝারী ও প্রান্তিক প্রায় ২ সহস্রাধিক পোল্ট্রি খামার। পরবর্তীতে এনজিও গুলো তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিলে ক্ষুদ্র ও মাঝারী খামার গুলো আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে।

এরসাথে বিদ্যূৎ বিপর্যয়, পুঁজি সংকট, খাদ্য ও বাচ্চার অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধি, সরকারী সহায়তার অভাব সহ বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে ধ্বস নামে গ্রামীণ পোল্ট্রি শিল্পে। নানা মুখী সংকটে খামার গুলো বন্ধ হলে বেকার হয়ে পড়ে কয়েক হাজার শিক্ষিত যুবক-যুবতী।

এই সুযোগে বিভিন্ন্ হ্যাচারী ফার্ম গুলো বেনিয়া কোম্পানীর মতো উপজেলা পর্যায়ে ডিলার নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক বাকীতে খামারীদের বাচ্চা, খাদ্য সরবরাহ ও চিকিৎসা সহায়তায় দিয়ে খামারীদের নিয়ন্ত্রনে রেখে তাদের উৎপাদিত মুরগী ডিলারদের কাছেই বিক্রি করে পাওনা শোধ করে নিচ্ছে। এতে খামারীদের কোন লাভ হচ্ছে না। শুধু কোম্পানীর পাওনা পরিশোধই হচ্ছে। মধ্য বজরা গ্রামের গোলেজান হোসনেয়ারা গিনি(৩৫) জানান, দেড় হাজার লেয়ার মুরগী খামার চালিয়ে ৫ বছরেই পূঁজি শেষ হয়ে গেছে। ফলে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি আরো জানান বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকায় ঠান্ডার কারণে প্রায়ই বাচ্চা মারা যায়।

এ ছাড়া খামারী ঋণ ও প্রশিক্ষনের অভাব, খাদ্যের দাম চড়া। সেইসাথে বাজারে ডিমের দাম কম এবং বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে খামারীরা লোকসান খাচ্ছে। তবকপুর বামনা ছড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম(৪০) চাকুরী ছেড়ে এনজিওর সহায়তায় নিজ বাড়ীতে ব্যাণিজ্যিক ভিত্তিতে মুরগীর খামার করে লাভবান হলেও অল্প দিনের মধ্যেই লোকশানে পড়ে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন।

এ অবস্থায় বাচ্চা ও খাদ্যের অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধি,উন্নত প্রশিক্ষনের অভাব, ব্যাংক ঋনের অভাব ও মুরগীর দাম কমে যাওয়ায় পূঁজি হারিয়ে বর্তমানে বেকার বসে আছেন। এদের মত বাবলু মিয়া, মিনাজুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম সহ কয়েক হাজার শিক্ষিত যুবক খামার করে লোকসান দিয়ে হাত গুটিয়ে বেকার বসে আছেন।

উপজেলা প্রানী সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ১ হাজার ৮ শত খামার ছিল। কিন্তু খাদ্য ও বাচ্চার অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধি সহ নানা সংকটে পড়ে গত ২ বছরে সহস্্রাধিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ১৫০ টি খামার রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি লেয়ার ও ১৪৩টি বয়লার। এসব খামার লোকসানের ঝুকিতে রয়েছে বলে প্রানী সম্পদ বিভাগ জানায়। এদিকে, কাজি ফার্মের ডিলার জাকিউল খন্দকারের সাথে কথা বলে জানা গেছে,তার অধিনে ১২০টি খামার রয়েছে।

ইতোমধ্যে লোকসানে পড়ে ৩৫টি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। নীল সাগড় ফার্মের ডিলার মোঃ আবু তালেবের অধিনে ৪৫টি খামারের মাধ্যে ১২ টি বন্ধ হয়ে গেছে। আমান সিড ফার্মের ডিলার আইয়ুব আলীর অধিনে ৫০টি খামার থাকলেও ইতোমধ্যে লোকসানে পড়ে ১৫টি বন্ধ হয়েছে। ডিলাররা জানান বাচ্চা ও খাদ্যের মুল্য বেশী কিন্তু বাজারে মুরগীর দাম কম হওয়ায় খামারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। ফলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে খামার গুলো হারিয়ে যাচ্ছে পোল্ট্রি শিল্প।

উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা আবদুল আজিজ প্রধান জানান,গত কয়েক বছরে সিংহ ভাগ খামার লোকসান খেয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে যারা রয়েছে তারা ও বেশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এ শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে স্বল্প মুল্যে বাচ্চা, খাদ্য, ঋণ সহায়তা ও প্রশিক্ষন প্রদানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য