শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতার্তের নির্দেশে ফিলিপিন্সের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির এক শীর্ষ মাওবাদী কমিউনিস্ট গেরিলা নেতাকে আটক করেছে।

বুধবার রাজধানী ম্যানিলার উত্তরপূর্ব শহর কোয়েজন থেকে ৬৯ বছর বয়সী বেইলসিসকে তার সঙ্গী রোকে গুইলারমোসহ আটক করা হয় বলে ফিলিপিন্সের ন্যাশনাল পুলিশের মুখপাত্র জন বুলালাকাও জানিয়েছেন।

পুলিশের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বেইলসিস ও তার সঙ্গী সেনা ও পুলিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বুধবার বিকালের দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর জালে ধরা পড়েন।

কোয়েজন শহরের বাসিন্দাদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয় বলে দাবি বুলালাকাওর।

“বেইলসিস সম্ভবত নিউ পিপলস আর্মির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন,” তিন হাজার সশস্ত্র সদস্যের মাওবাদী গেরিলা সংগঠনটির নাম উল্লেখ করে বলেন পুলিশের মুখপাত্র।

অর্ধশতাব্দী ধরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে নিউ পিপলস আর্মির লড়াইয়ে ৪০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছে বলে ধারণা রয়টার্সের; লড়াইয়ের কারণে ফিলিপিন্সের মধ্যাঞ্চলের খনি ও চাষাবাদে সমৃদ্ধ বেশকটি অঞ্চলও ক্রমাগত দরিদ্র হয়ে পড়ছে।

কয়েক মাস আগে মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর বেইলসিসই প্রথম আটক হওয়া শীর্ষ নেতা।

২০০৬ সালে সেনাবাহিনী ফিলিপিন্সের মধ্যাঞ্চলে সন্দেহভাজন ১৫ সরকারি গুপ্তচরের একটি গণকবর আবিষ্কারের পর এ গেরিলা নেতার বিরুদ্ধে গণহত্যায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

গত বছরের অগাস্টে বেইলসিসসহ ১৮জন গেরিলা নেতাকে জামিন দিয়ে মধ্যস্থতা ও আলোচনার জন্য নেদারল্যান্ডে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল ফিলিপিন্স সরকার।

আলোচনা চলার সময়ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে দুতার্তে মাওবাদী কমিউনিস্টদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বাতিল করে দেন। গেরিলা নেতাদের ‘সন্ত্রাসী’ অ্যাখ্যা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তারেরও নির্দেশ দেন তিনি। ওই ধারাবাহিকতাতেই বেইলসিসকে আটক করা হয় বলে ভাষ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

মানবাধিকার সংগঠন ও বাম রাজনৈতিক কর্মীরা রাষ্ট্রের জারি করা ‘দায়মুক্তি’র মধ্যেই বেইলসিসকে আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। গেরিলা এ নেতার মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল পুলিশের সদরদপ্তরের সামনে বিক্ষোভেরও ঘোষণা দিয়েছে তারা।

“বানোয়াট অভিযোগগুলো অবশ্যই বাতিল করতে হবে। শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারীকে নির্যাতন করার চেয়েও দুতার্তের উচিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সূচিগুলো নিয়ে শান্তি আলোচনা ফের শুরু করা,” বিবৃতিতে বলেন স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন বায়ানের সেক্রেটারি জেনারেল রেনাতো রেইজ।

মাওবাদী গেরিলাদের রাজনৈতিক শাখা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বেইলসিসের আটককে ‘অবৈধ’ অ্যাখ্যা দিয়েছে। এর মাধ্যমে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বেইলসিসের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ‘গুরুতর লংঘন’ ঘটেছে বলেও অভিযোগ তাদের।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র হ্যারি রোকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট শান্তি আলোচনা বাতিল করার সঙ্গে সঙ্গেই ওই গেরিলা নেতাদের নিরাপত্তা ও দায়মুক্তি অকার্যকর হয়ে পড়েছিল।

বেইলসিসের আটকাদেশ নিয়ে আদালতে যেতেও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

“কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে; যদি তাকে গ্রেপ্তার না করা হত, তাহলে কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে মুখোমুখি হতে হত,” বলেন তিনি

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য