বিরোধী সব গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীকে গ্রেফতার বা নির্যাতনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ‍তুলে মিসরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বিরোধী দলীয় জোট। তারা এই নির্বাচনকে ‘হাস্যকর পাগলামি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, বুধবার মিসরের আটটি বিরোধী দল ও গণতন্ত্রপন্থী ১৫০ জন ব্যক্তিত্ব এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির সরকারের বিরুদ্ধে ‘যে কোনও ন্যায্য প্রতিযোগিতা’ প্রতিহত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। সরকারের বিরুদ্ধে এসবের প্রতিবাদ জানিয়ে মার্চে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে সাধারণ মিসরীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

কায়রোতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিবৃতি প্রকাশকালে বিরোধী নেতা আবদেল গিলিল মুস্তাফা বলেন, এই সীমাহীন হাস্যকর পাগলামির কাছে আমাদের আত্মসমর্পণ করা ঠিক হবে না। আর ২০১৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সিসির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হামিদ সাবাহি ‘বাড়িতে থাক’ স্লোগানে একটি প্রচারিভাযানও শুরু করেছেন।

২০১৩ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মোহাম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা সিসি। তিনি নিশ্চিতভাবে আগামী মার্চ মাসের নির্বাচনে জয়লাভ করতে যাচ্ছেন। কারণ তিনি বেশ কয়েকজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে গ্রেফতার করেছেন নয়তো মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের হুমকি দিয়েছেন। ফলে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।

নির্বাচনের অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাকারী সাবেক সেনা কর্মকর্তা সামি আনানকে গত মঙ্গলবার বন্দুকের মুখে আটক করে নিয়ে গেছে মিসরীয় নিরাপত্তা বাহিনী। তার আগে শনিবার কায়রোয় রাস্তায় এক হামলার শিকার হয়ে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিশাম গিনেনা আহত হন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিন্তা করলেও এ মাসের শুরুতে নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন।

তার আইনজীবীরা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, মিসরীয় সরকার তার বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে হুমকি দিয়ে তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য