চিরিরবন্দরে ভগ্নিপতির উপুর্যপুরি ছুরিকাঘাতে শ্যালিকা নিহত ও স্ত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। দিনাজপুর সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মাহমুদুল হাসান গতকাল ৩০ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী দক্ষিণ এলাকার বাসিন্দা আবুল বাশারের প্রবাসী ছেলে আব্দুল্লাহিল শুভ পূর্বের স্ত্রী ও সন্তান থাকার কথা গোপন রেখে পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়া উপজেলার জোত সাহেব বাজার গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক মজিদুল হকের মেয়ে ফাতেমা বেগম ওরফে সোনিয়াকে (২৫) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সুত্র ধরে গত ২০১৭ সালের ৯ই জুন বিয়ে করে।

শুভ প্রবাসে উপার্জিত অর্থ দ্বিতীয় স্ত্রী সোনিয়ার নিকট পাঠাতে শুরু করে। কিছুদিন পর স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে সোনিয়া কুমিল্লায় স্বামীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের কথা জানতে পারেন এবং সোনিয়া তাঁর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে সংসার না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এক পর্যায়ে গত দু’মাস পূর্বে তাঁকে তালাক প্রদান করে। এরপর সোনিয়া চিরিরবন্দর উপজেলা চত্ত্বরের পশ্চিমে নির্বাচন অফিসের পিছনে সীমানা প্রাচীর ঘেষা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার তাজিমউদ্দিনের ভাড়া বাসায় ভগ্নিপতি ও বড় বোনের নিকট চলে আসে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী শুভ দ্বিতীয় স্ত্রী সোনিয়ার সাথে সরাসরি কথা বলার জন্য গত ২৯ জানুয়ারি সোমবার বড় ভায়রা চিরিরবন্দর সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার আমিনুর রশিদ বকুলের ভাড়া বাসায় আসে। ওইদিন আনুমানিক বিকেল ৩টায় স্বামী-স্ত্রীর কথাকাটির এক পর্যায়ে শুভ ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী সোনিয়াকে হত্যার চেষ্টা চালালে তাঁর (স্ত্রীর) বড় বোন মর্জিনা বেগম মুন্নী (৩৫) এগিয়ে এসে বাঁধা প্রদান করলে, শুভ তাঁকে উপুর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে ও স্ত্রীকে পুনরায় হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে শুভকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। গুরুতর আহত বড় বোন মুন্নী ও ফাতেমা বেগম ওরফে সোনিয়াকে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুন্নীকে মৃত ঘোষনা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আমিনুর রশিদ বকুল বাদি হয়ে একজনকে আসামী করে চিরিরবন্দর থানায় একটি হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার পরে চিরিরবন্দর হাসপাতালে জরুরী বিভাগে ঘাতক শুভ জানিয়েছিল, সে একাই এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। সে আরো বলেছিল তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সোনিয়া তাঁর নিকট অনেক টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে তাঁকে তালাক দিয়েছে।

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারেসুল ইসলাম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রকৃত অপরাধী আটক রয়েছে। তারপরও প্রয়োজনীয় তদন্তপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রমেক হাসপাতালে আহত ফাতেমা বেগম সোনিয়া আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য