সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদাতাঃ আগামী ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে বর্তমান মহাজোট সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। সরকার চাইলে মেয়াদ শেষের পরপরই নির্বাচন দিতে পারেন। তবে নির্বাচনী বিধিবিধান মতে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। তাই আগামী সংসদ নির্বাচন হবে সকল দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। এমন আশা করছেন দলীয় নেতাকর্মীসহ সকল স্তরের জনগন। তবে বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলো এখন থেকেই তাদের দাবি জুড়িয়ে দিচ্ছেন নির্বাচন কমিশনকে।

তাদের প্রথম দাবি হলো সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আসতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ বলছেন তা হবে না। ক্ষমতায় থেকে আগামী নির্বাচন হবে। আর ওই নির্বাচনে বিএনপিসহ সকল দল অংশ নেবে। কারণ গত নির্বাচনে বিএনপি ভোটে অংশ না নিয়ে যে ভুল করেছে সেই ভুল আর তারা করবেন না। এমন মন্তব্য করছেন সরকার দলীয় মন্ত্রী এমপিরা।

তবে বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবেন না। এমন তর্কবিতর্কের মধ্যে দিয়ে সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতিমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে নেমেছেন। যারা কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে জড়িত আজ তারাও ছুটে এসেছেন গ্রামে। নির্বাচনী এলাকায়। সভা-সমাবেশ শালিস বৈঠক, বিয়ে, সামাজিক সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সামিল হয়ে এলাকার লোকের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করছেন।

কেউ দোয়া নিচ্ছেন আবার কেউ বা দোয়া দিচ্ছেন। এ আসনে প্রথম এমপি ছিলেন মরহুম আলীম উদ্দিন (আ’লীগ), এরপর যথাক্রমে মরহুম মজিবর রহমান (বিএনপি), মরহুম রওশন আলী দুলু মিয়া (জাতীয় পার্টি), কাজী ফারুক কাদের (জাতীয় পার্টি), মরহুম অধ্যাপক আব্দুল হাফিজ (আ’লীগ) তিনি দু’বার ছিলেন, মরহুম ড. আসাদুর রহমান (জাতীয় পার্টি), অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকার (বিএনপি), মরহুম কর্নেল অব. এএ মারুফ সাকলান (আ’লীগ), আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী (মহাজোট)।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ৬শ’ ৫৫ জন। তবে এ মাসেই আরও কিছু ভোট যোগ হতে পারে বলে জানান কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার। সৈয়দপুরে ১টি পৌরসভাসহ ৫টি ইউনিয়ন ও কিশোরগঞ্জে ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে নির্বাচনী এলাকা। এর মধ্যে সৈয়দপুরে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮১ হাজার ৫শ’ ৭ জন।

পৌর এলাকায় ভোটার ৮৫ হাজার ৯শ’ ৭৮ জন এবং ৫ ইউনিয়নে ৯৫ হাজার ৫শ’ ২৯ জন ভোটার। অপরপাশে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ১শ’ ৪৮ জন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের ১২জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ভরে গেছে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ এলাকা।

মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে নীলফামারী পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা আখতার হোসেন বাদল, আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ সাখাওয়াত হোসেন খোকন, পৌর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী সিকান্দার আলী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য আমেনা কোহিনুর, স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাফিউল ইসলাম নাফা, বাংলাদেশ আওয়ামী কর আইনজীবী লীগ এর প্রকাশনা সম্পাদক এ্যাড আমিরুল ইসলাম আমির, আওয়ামী লীগ সদস্য ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ হোসেন। সবাই নৌকা প্রত্যাশী।

তবে কে ভাগ্যবান হবেন তা বলা মুশকিল। আবার খটকা রয়েছে এখানে মহাজোট হবে কিনা। সরকার দলীয় সূত্রে জানা যায় এবার সৈয়দপুরে মহাজোট হলে মার্কা হবে নৌকা। কারণ এখানে জাতীয় পার্টি তেমন একটা ভালো অবস্থানে নেই। আওয়ামী লীগ কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুরে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সেক্ষেত্রে মহাজোট হলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীই হতে পারেন মহাজোটের প্রার্থী এবং মার্কা হবে নৌকা।

যদি মহাজোটের প্রার্থী আওয়ামী লীগের হয় তাহলে বিজয় অনেকটা সহজ হবে। অপরপাশে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির হলে এখানে বিজয় ছিনিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না বলে দলীয় নেতা-কর্মীসহ বিজ্ঞ মহল মন্তব্য করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য