আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সামাদ আজাদের বিরুদ্ধে ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৫শ’ টাকা দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ওই ১০ জন মেম্বর। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, রংপুর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগটি দাখিল করা হয়। এছাড়া ইউপি সদস্যরা বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে উক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে পৃথক একটি অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেন।

দুর্নীতির অভিযোগে উলে¬খ করা হয়, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় দেখিয়ে উক্ত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইউপি ভবনের ভাঙ্গা দরজা-জানালা মেরামত ও ভবন রংকরণ এবং ইউনিয়নকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণার বিভিন্ন কার্যক্রমের পৃথক দুইটি প্রকল্প গ্রহন করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এছাড়া একই খাতে দরজা-জানালা মেরামত, ল্যাট্রিন ও বাথরুম মেরামত, বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ও লাইটিং, ক্রোকারিজ সামগ্রী ক্রয়, ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে টেবিল, চেয়ার ও আনুসঙ্গিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে উঁচু-নিচু বেঞ্চ সরবরাহের জন্য পৃথক তিনটি প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও তা কাজ করা হয়নি।

তদুপরি ইউপি দ্বিতল ভবনের ল্যাট্রিন সংষ্কার, বিভিন্ন কক্ষের বৈদ্যুতিক পাখা সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় ওয়্যারিং এবং ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর ও পরিষদ সীমানার বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ, রথবাজারের শেড ঘরের মেঝে মেরামত, হাঁটার গলি পাকাকরণ ও একটি নলকূপ স্থাপন এবং আন্তঃজেলা ফেরি ও খেয়াঘাট নতুন ব্রীজ সংলগ্ন ঘাটের ছাউনি সংস্কার, ছাউনিতে বসার ব্যবস্থাকরণ এবং ছাউনি সংলগ্ন রাস্তা সংস্কারের বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও তা কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

এছাড়াও অনাস্থা প্রস্তাবেও উল্লেখিত দুর্নীতি ছাড়াও ইট ভাটার কর আদায় করে ইউপি তহবিলে জমা না দেয়া, ভিজিডি কার্ড, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসূচী কার্ড, বয়স্ক বিধবা প্রতিবন্ধী কার্ড প্রদানে অর্থ আদায়, গ্রাম আদালত অবমাননা ও বিচারের নামে অবৈধভাবে আটকাদেশ দিয়ে অর্থ আদায়, পাকা বাড়ির নক্সা অনুমোদনের নামে অর্থ আদায় করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসমস্ত অভিযোগে ওই ইউনিয়নের ১০ জন মেম্বর স^াক্ষর করে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৯ ধারা মোতাবেক এই অনাস্থা প্রস্তাবটি দাখিল করেন।

এব্যাপারে চেয়ারম্যান শেখ সামাদ আজাদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আরোপিত এসব অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট। আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে কিনা তা পরিদর্শন করলেই সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।

এব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, প্রাপ্ত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়গুলো জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়েও পদ্ধতিগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য