আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: বিষমুক্ত থাই পেয়ারা চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন জেলা লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোপালরায় গ্রামের নুরুল হক। বর্তমানে তার বাগানে উৎপাদিত পেয়ারা স্থানীয়ভাবে বিক্রির পাশাপাশি পাঠাচ্ছেন রাজধানী ঢাকায়ও।

চলতি মৌসুমে তার সাত একর জমিতে গড়ে তোলা বাগানের পেয়ারা বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা লাভ করবেন বলে আশা করছেন তিনি।

নুরুল হক জানান, পৈতৃক ও নিজকৃত ১৪ একর জমিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পেঁপে, আম, লিচুসহ অন্যান্য ফলের চাষ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ বছর আগে থাই পেয়ারা চাষ শুরু করেন। তিনি জানান, ২০১২ সালের শেষের দিকে এ থাই পেয়ারা চাষ শুরু করেন।

ভালো ফল পেতে নাটোর, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার বাগানও পরিদর্শন করেছেন। দশ মাস পরেই তার পেয়ারা গাছে ফল আসে। বাগানের প্রতিটি থাই পেয়ারার ওজন ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম। প্রতিটি গাছে কমপক্ষে ২৫ কেজি পেয়ারা পাওয়া যায়। খেতে খুব সুস্বাদু।

প্রতি কেজি পেয়ারা বাগানে পাইকারি দর ৮০ থেকে ৯০ টাকা। খুচরা বিক্রি ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। নিয়মিত পরিচর্যা করে চাষ করলে প্রতিটি থাই গাছ থেকে এক হাজার টাকার অধিক লাভবান হওয়া যায়।

তার বাগানে এখন ৪৪০০ গাছ রয়েছে এবং প্রতিটিতেই ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে বিষমুক্ত থাই পেয়ারা চাষ হচ্ছে। এরই মধ্যে থাই পেয়ারার ৪ হাজার কলম চারা করা হয়েছে। প্রতিনিয়তই বাগান দেখার জন্য কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা পরিদর্শন করেন এবং পরামর্শ দেন।

তার মতে, থাই পেয়ারার আবাদ যথেষ্ট লাভজনক। প্রতি একর জমিতে এ জাতের পেয়ারা চাষে খরচ হয় ৪০-৪৫ হাজার টাকা। আর মৌসুমে এক একর জমিতে উৎপাদিত পেয়ারা বিক্রি হয় কমপক্ষে ১ লাখ টাকায়। এ মৌসুমে সাত একর জমিতে উৎপাদিত পেয়ারা থেকে কম করে হলেও ৮লাখ টাকা লাভ করবেন বলে আশা করছেন তিনি। আগামী পাঁচ বছর এ বাগান থেকে একই ফলন পাওয়া যাবে বলে দাবি তার। লাভজনক হওয়ায় এলাকার অনেক কৃষকই থাই পেয়ারা চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

লালমনিরহাটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক বিধু ভূষণ রায় জানান, ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে জৈব সার ব্যবহার করে বিষমুক্ত থাই পেয়ারা চাষ করায় এটা যেমন সুস্বাদু তেমনি লাভজনক। নুরুল হকের এ থাই পেয়ারা বাগান অনেকের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। পেয়ারাসহ অন্যান্য ফলের চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের ফল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য