আগামী মাসে ভারত সফরে আসবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ার ফিলিস্তিন, আরব আমিরাত ও ওমান সফর শেষে ফিরে আসার পরই রাষ্ট্রীয় ভারতে আসবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। ওই সফরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলেও জানায় সংবাদমাধ্যমটি। ২০১৬ সালের মে মাসে ইরান সফর করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার জের ধরে চলতি মাসে বড় একটি বিক্ষোভ সামলেছে রুহানির সরকার। তবে এসব ছাপিয়ে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েন পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়েছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তানে সমুদ্র পথে যোগাযোগ সহজ করতে ভারত ও ইরান ছাবাহার বন্দরে কার্যক্রম শুরু করেছে। ২০১৬ সালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ইরান সফরের সময় এই বন্দরে ভারতীয় বিনিয়োগের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়। ইরানকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়ে ওই বন্দর আধুনিকায়নের মাধ্যমে আফগানিস্তানে প্রবেশ সহজ করেছে ভারত।

তবে ইরানের ফারজাবাদ বি গ্যাস ক্ষেত্র নিয়ে দুই দেশের বিতর্ক একজায়গায় স্থির হয়ে আছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, ইরান যদি এই গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে কড়া অবস্থান নেয় তবে শক্তির বিকল্প উৎস ভারতের কাছে রয়েছে। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত দুই বছরে এর জন্য ভারতের চাহিদা এতোটা বড় হয়ে ওঠেনি যে আলোচনায় আমাদের ছাড় দিতে হবে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ায় বিনিয়োগের পাশাপাশি ইসরায়েলের সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়িয়েছে ভারত।

ওসব এলাকায় সমস্যার মুখে পড়লে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী বিবেচনা করছে ভারত। ইরানকে ওই এলাকার স্বাভাবিক আঞ্চলিক শক্তি বিবেচনা করে তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য