সরকারী বাহিনীর সঙ্গে কয়েকদিনের লড়াইয়ের পর বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর এডেনের প্রায় পুরো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

বিবিসি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আহমেদ বিন ডাগর ও তার মন্ত্রীসভার সদস্যরা এডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণাঞ্চলের এই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীগুলোর কথাবার্তা চলছে বলে খবর হয়েছে। এই দুটি পক্ষ উত্তরাঞ্চলের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্র হয়ে লড়াই করছিল, কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু করায় ইয়েমেনে নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্রের সৃষ্টি হল।

রেডক্রস জানিয়েছে, রোববার থেকে শুরু হওয়ার লড়াইয়ে এ পর্যন্ত ৪০ জন নিহত হয়েছেন।

বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এডেনের সামরিক ঘাঁটিও দখল করে নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

পূর্বাঞ্চলীয় খোর মাকসার জেলায় দুপক্ষের মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর তা দ্রুতই দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রেটার জেলা, প্রেসিডেন্ট প্যালেসের নিকটবর্তী এলাকায় ও সমুদ্র বন্দরের পেছেনের পাহাড়গুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সামরিক ঘাঁটিসহ সরকারি দপ্তরগুলো দখল করে নেয়। প্রধানমন্ত্রী ডাগর এই ঘটনাকে ‘অভ্যুত্থান’ অভিহিত করে এর নিন্দা করেন। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা প্রেসিডেন্ট হাদি তার অনুগত বাহিনীগুলোকে এডেন সুরক্ষিত রাখার আদেশ দেন।

কিন্তু মঙ্গলবার সকালের মধ্যেই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দক্ষিণাঞ্চলীয় দার সাদ জেলায় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট বাহিনীর শেষ শক্তিকেন্দ্রটি দখল করে নিয়ে প্রেসিডেন্ট প্যালেসের কাছে পৌঁছে যায়।

দক্ষিণাঞ্চলভিত্তিক এই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ডাগর সরকারকে শহর থেকে নিরাপদে সরে যেতে সুযোগ দেওয়ার জন্য আলোচনা চলছে। কিন্তু সরকার পক্ষের এক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর শহর ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই।

এর আগে সেভ দ্য চিলড্রেন ঘোষণা করেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা সব ধরনের মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার উভয়পক্ষকে ‘শত্রুতা পরিহার’ করার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি জোটকে সমর্থন দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘এডেনের সব পক্ষকে সংলাপে বসে একটি রাজনৈতিক মিমাংসায় উপনীত হওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছে।

২০১৫ সালে উত্তরাঞ্চলভিত্তিক হুতি বিদ্রোহীদের অভিযানে রাজধানী সানার পতন হলে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আব্দুরাব্বু মনসুর হাদি ও তার মন্ত্রীসভা রাজধানী থেকে পালিয়ে যান। পরে বন্দর শহর এডেনকে কেন্দ্র করে সরকার পরিচালনা করতে শুরু করেন তারা।

প্রেসিডেন্ট হাদির পক্ষ হয়ে হুতি বিদ্রোহীদের দমন করতে এগিয়ে আসে প্রতিবেশী সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোট বাহিনী। এই জোট বাহিনী সানাসহ হুতি অধিকৃত ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।

এতে ইয়েমেনজুড়ে এক বহুপাক্ষিক লড়াই শুরু হলে জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৯,২৪৫ জনেরও বেশি লোক নিহত ও ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

এখন দক্ষিণাঞ্চলে নতুন আরেকটি লড়াই শুরু হওয়ায় ইয়েমেনের পরিস্থিতি আরো জটিল ও নাজুক হয়ে পড়বে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য