আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী নামক স্থানে অবস্থিত দেশে বৃহৎতম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ। এর পাশেই ফ্লাড বাইপাস সড়ক। তবে সেটি দেখে ফ্লাড বাইপাস নয়, মনে হবে যেন মরণফাঁদ। প্রায় আধা কিলোমিটারের এই সড়কে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের আওতায় দেশের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষি জমিগুলোকে ইরি-বোরো মৌসুমে সেচের সুবিধায় আনা হয়। এই ব্যারাজকে বন্যার সময় পানির চাপ থেকে রক্ষার জন্য নির্মিত হয়েছে ব্যারাজের পাশেই ফ্লাড বাইপাস সড়ক। তবে সেটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। কারণ এবারের বন্যায় তিস্তা ব্যারাজ রক্ষায় ওই বাঁধ কেটে দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দোয়ানী-ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সে সময় বাঁধটি কেটে দেয়ায় পানির তোড়ে ভাটিতে লালমনিরহাট জেলা অনেক ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট, কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ফ্লাড বাইপাস ভেঙে যাওয়ায় সড়কটিতে খানাখন্দ ও মাঝে মাঝে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে। নিয়ম অনুযায়ী বন্যার পর ফ্লাড বাইপাস সড়কটি মেরামত করা হলেও এবার রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত তা মেরামত করা হয়নি। খানাখন্দে ভরা যোগাযোগের অনুপযোগী গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা।

জানা গেছে, লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর, পাটগ্রাম, বাউরা, বড়খাতা, সানিয়াজান ও দোয়ানীর বাসিন্দাদের রংপুর চলাচলের জন্য বিশেষ করে লালমনিরহাট ও নীলফামারী যোগাযোগের সহজলভ্য এ সড়কটি চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যানবাহন চালাতে হিমশিম খান চালকরা। প্রতিনিয়ত এ সড়কপথে হাজার হাজার যাত্রী প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনাও। অনেকেই ৫০ কিলোমিটার বেশি পথ ঘুরে লালমনিরহাট সদর ও রংপুরের কাউনিয়া হয়ে বিভাগীয় শহর রংপুর চলাচল করছে।

ইজিবাইকের চালক আব্বাস আলী ও মফিজুল ইসলাম জানান, খানাখন্দে ভরা সড়কে ইজিবাইক চালানোর সময় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ ঠিক রাখতে না পারায় প্রায়ই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। দুর্ঘটনার হাত থেকে জানমাল রক্ষার জন্য সড়কটি মেরামত করা জরুরি প্রয়োজন।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আতিয়ার রহমান বলেন, ফ্লাড বাইপাস সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী। এটা সংস্কারে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাধিকবার তাগিদ দিলেও সংস্কার হয়নি। এর আগে এই সড়কে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে এলাকার বেশ কয়েকজন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোয়ানী-ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম শামসুজ্জোহা বলেন, ফ্লাড বাইপাস সড়কটি সংস্কারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য