গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দা ও লাঠশালার চরে এক হাজার একর জমির উপর নির্মাণ হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ ২০০ মেঘা ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন (এসি)সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

এ যেন অন্ধকারে আলোর ঝিলিক দেখা দিয়েছে। তিস্তার ধু-ধু বালু চরে গড়ে উঠছে ১৮ফিট প্রস্থ ৭কিলোমিটার পাকা রাস্তা,সাড়ে চার কিলোমিটার বর্ন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ,একটি আনছার ক্যাম্প,একটি শিল্প পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র,আবাসিক এলাকা,স্কুল,কলেজ,মাদরাসা, বাজার এবং আশ্রয়হীনদের জন্য বসত বাড়ি।

বেসরকারি খাতের দেশের সর্ববৃহৎ শিল্পগোষ্ঠি বেক্সিমকো গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান তিস্তা সোলার লিমিটেড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন করছে। গত বছরের ২৬ অক্টোবর তিস্তা সোলার লিমিটেড এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় ও বাস্তবায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানী বিধায় প্রকল্পটি সরকারের অগ্রাধিকার প্রাপ্ত প্রকল্পসমুহের অন্তর্ভূক্ত।

উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দা ও লাঠশালার চরে এক হাজার জমির একর উপর নির্মাণাধীন প্লান্টটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সাতশত একর জমি ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে। শুরু হয়েছে প্রাচীর বাঁধ ,পাকা রাস্তা ,আনসার ক্যাম্প,শিল্প পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র,বালু ভরাট ও আবাসিক ভবন নির্মাণ কাজ।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পাওটানা সড়কের সাথে সংযোগ হচ্ছে সাত কিলোমিটার পাকা রাস্তা। তিস্তা সোলার লিমিটেডের নিজস্ব অর্থায়নে পাকা রাস্তার কাজ প্রায় শেষের দিকে। বাকী তিনশত একর জমি ক্রয়ের কাজ চলছে। তিস্তার গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া জমির মালিকরা চরে ফিরে গিয়ে সঠিক দামে জমি বিক্রি করছে।

এছাড়া স্থানীয় ২৫জন বেকার যুবক তিস্তা সোলার লিমিটেডের বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ পেয়েছে। ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল ,ইউএনও এসএম গোলাম কিবরিয়া সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।

এসময় তিনি খোদ্দা ও লাঠশালা চরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ফিরে দেখেন এবং চরের কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করেন। জেলা প্রশাসক বলেন সরকারের উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ডের জন্য যদি চরের জমি প্রয়োজন হয়,তাহলে আপনাদের সাথে পরার্মশ করে সঠিক দামে জমি অধিগ্রহন করতে পারেন। কথা হয় তিস্তা সোলার লিমিটেডে চাকরিপ্রাপ্ত খোদ্দার চরের আনোয়ার হোসেন সাথে।

তিনি বলেন খোদ্দার চরের জমিগুলো পরিত্যাক্ত অবস্থায় ছিল । তিস্তা সোলার লিমিটেড তা ক্রয় করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে। এতে করে আমরা জমির ন্যার্য মূল্যে পাচ্ছি । পাশাপাশি এলাকার অনেকের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান,তার ইউনিয়নে দেশের সর্ববৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান হচ্ছে সেটি তার ইউনিয়ন বাসীর জন্য একটি গর্ভের বিষয়। তিনি মনে করেন এই সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে চরাঞ্চলবাসী অন্ধকার জগত থেকে আলোর জগতে ফিরে আসবে। তিস্তার চরের ভিতরে পাকা সড়ক আসবে এটি চরাঞ্চলবাসী কখনই কল্পনা করেনি। যোগাযোগ ব্যবস্থার মান উন্নয়ন হওয়ায় চরের মানুষের জীবন যাত্রার মান অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে।

তিস্তা সোলার লিমিটেডের চীফ কো-অডিনেটর ও প্রধান প্রকল্প সমন্বয়কারী মো:ইয়ার আলী জানান, সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে ২০০ মেঘা ওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে। খোদ্দা এবং লাঠশালা চরের কমপক্ষে আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ছায়া নিবিড় কৃষি উৎপাদনের দিকে বিশেষ নজর দিয়ে তিস্তা সোলার প্লানন্টটি নির্মাণ হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাধ্যমে সমবায়ের ভিত্তিতে ওইসব জমিতে কৃষি কাজ পরিচালনা করা হবে।

এছাড়া তিস্তা সোলার লিমিটেডের সাথে সংযোগ রক্ষাকারী সড়কে সবুজ বনায়ন কর্মসুচি আওতায় নিয়ে আসা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য