আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে পাশবিক আখ্যা দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি আফগানিস্তান সফর করা জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, তালেবানের সঙ্গে আর কোনও আলোচনায় বসতে রাজি নয় তার দেশ। সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের আয়োজনে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় এসব কথা বলেন ট্রাম্প।
ডোনাল্ড ট্রাম্প

এক সপ্তাহের মধ্যে কাবুলে ৩ টি বড় হামলা সংঘটিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ৯ টার দিকে জালালাবাদে সেভ দ্য চিলড্রেনের কার্যালয়ের সামনে আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণে ২ জন নিহত ও ১২ জন আহত হওয়ার খবর জানানো হয়।

জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকার করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। শনিবার তালেবানের অ্যাম্বুলেন্স বোমা হামলায় নিহত হয় শতাধিক মানুষ। সোমবার আইএসের দায় স্বীকার করা কাবুলের মিলিটারি একাডেমির হামলায় নিহত হন ১১ সেনা।

সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, আফগানিস্তানে এমন বোমা হামলার জন্য দায়ী তালেবানের সঙ্গে কথা বলতে চান না তিনি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যদের সামনে তিনি বলেন, ‘চারপাশে নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে। পরিবারের সামনে শিশু মারা যাচ্ছে। আমরা হত্যাকারীদের সঙ্গে কথা বলতে চাই না।’

যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের মিত্ররা ধারাবাহিক অভিযোগ করে আসছে, আফগান তালেবান ও তাদের মিত্র হাক্কানি নেটওয়ার্ককে পাকিস্তানে ‘নিভৃত আবাস’ গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ। নতুন বছরের টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিথ্যাচার ও সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তুলে পাকিস্তানে সহায়তা বন্ধের হুমকি দেওয়ার পর জানুয়ারির শুরুর সপ্তাহে নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিতের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। মাসের শেষ সপ্তাহে এসে একের পর এক হামলার শিকার হতে শুরু করে আফগানিস্তান।

মার্কিন জেনারেল জোসেফ এল ভোটেল বলছেন, এইসব হামলা তাদের মনোবল ভেঙে দিতে পারেনি। তবে হামলার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই না। পরে হতে পারে। কিন্তু খুব শিগগিরই এটা হচ্ছে না।’ সোমবারের বক্তব্যে আফগান যুদ্ধ থামানোর কোনও ইঙ্গিতই এদিন ট্রাম্প দেননি। প্রশাসন চাইছিলো এই দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে তেমন কোনও আভাস মেলেনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য