নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আলু ক্ষেতে লেটব্রাইট রোগের আক্রমণ ঠেকাতে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। গত দু’সপ্তাহ ধরে প্রচন্ড ঠান্ডা শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় আলু ক্ষেতের নাভি ধ্বসা ও গোড়া পচন রোগ দেখা দিয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় আলুর গাছগুলোর পাতা বিবর্ণ রুপ ধারণ করেছে। একই জমিতে একদিন পর বিভিন্ন ধরণের বালাইনাশক স্প্রের করেও সুফল না পাওয়ায় আলু চষিরা বিপাকে পড়েছে।

উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ায় অনেকে গরু ছাগল বিক্রি করে মূলধন হারিয়ে লোকসানের ঘানি টানছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে প্রকাশ, চলতি বছরে ৬৬৬০হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হলেও এবারে আলু চাষ হয়েছে ৬০৪০ হেক্টর জমিতে। হেক্টর প্রতি ১৯টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ১৫/১৬টন পর্যন্ত হতে পারে। জানা যায়, আগাম ও নমল আলু উৎপাদনে কিশোরগঞ্জ উপজেলার সুখ্যাতি দীর্ঘদিনের।

আলুচাষ এ অঞ্চলের কৃষকদের একমাত্র অর্থকারী ফসল। আড়ৎদারদের মাধ্যমে এ উপজেলায় উৎপাদিত আলু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বাজারজাত করা হয়। গত বছরের তুলনায় এবছর আলু চাষের পরিমান তুলনামূলক কম। উৎপাদন ব্যায় ও বাজার মূল্যের কারণে এ উপজেলার কৃষকেরা আলুচাষে বিগত দু’বছর যাবত লোকসান গুনেছে।

এবারে বিরুপ আবহাওয়ায় কৃষকদের ব্যায় বেশী হলেও উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় তুলনামূলক আর্থিক ক্ষতি বেড়েছে। উপজেলার রণচন্ডী ইউনিয়নের ময়দানপাড়া গ্রামের কৃষক মোশফেকুর রহমান বলেন, ৭ বিঘা জমিতে বীজ আলুর চাষাবাদ করেছি।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে (লেটব্রাইট) নাভি ধ্বস রোগের আক্রমণ ঠেকাতে সপ্তাহে তিনদিন আলু ক্ষেতে বালাইনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যায় দ্বিগুন বেড়েছে। ঘন ঘন স্প্রে করার কারণে আলুর গাছগুলো খাটো ও পাতা বিবর্ণরুপ ধারণ করছে।

ফলে উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবেনা। লোকসানের আশঙ্কা মাথায় নিয়েই আলুক্ষেতের পরিচর্যা চলছে। বাজেডুমরিয়া গ্রামের কৃষক আফছার আলী জানায়, চার বিঘা জমির আলু বিক্রি করে প্রায় ২০হাজার টাকা লোকসান গুনেছে।

লেটব্রাইটের আক্রমণের (গোড়া পচন ও নাভি ধ্বস) কারণে তাঁর দুই বিঘা জমির আলু ক্ষেত বিনষ্ট হয়ে গেছে। একই গ্রামের কৃষক আহম্মাদ আলী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ করে বলেন, গতবছর আলুতে লোকসান গুনে এবারে মাত্র তিন বিঘা জমিতে আলুচাষ করেছি।

কিন্তু কৃষি অফিসের লোকদের এলাকায় দেখা না পাওয়ায় আলু ক্ষেতের গোড়া পচন ও নাভি ধ্বসের জন্য কীটনাশকের দোকান থেকে ওষুধ ক্রয় করে একাধিকবার স্প্রে করেও আলুক্ষেত রক্ষা পায়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এবারে প্রতিকুল আবহওয়ার কারণে আলুর উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিছুটা বিঘœ সৃষ্টি হতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য