ঠাকুরগাঁও সংবাদাতা : ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজি বাইক) ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার দখলে চলে গেছে শহরের অপ্রশস্ত সড়কগুলো। আর এসব ইজি বাইক ও অটো রিক্সার কারণে শহরবাসীর চলাফেরা দুঃসহ হয়ে পড়েছে। চরম আকার ধারণ করেছে মানুষের ভোগান্তি। শহরের অনতম ব্যস্ত সড়ক বাসস্ট্যান্ড-ঠাকুরগাঁও রোড এর বিভিন্ন পয়েন্টে দিনভর যানজট লেগেই থাকে।

বিশেষ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তা, আর্টগ্যালারি মোড়, আড়ত ও ঠাকুরগাঁও রোড এলাকায় অনাকাংখিত এ যানজট ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠছে। শহরের বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়কে ইজি বাইকের চালকরা রাস্তায় যেখানে সেখানে অটো থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করে। নিয়ন্ত্রহীনভাবে অটো রিক্সা চলাচলের কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে।

শহরে কতগুলো ইজিবাইক আর অটো রিক্সা চলাচল করে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান কারো কাছেই নেই। ইজি বাইক মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইজিবাইক শহরে চলাচল করছে। কিন্তু ভুক্তভোগি অনেকের মতেই এ সংখ্যা দশ হাজারের কম নয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় সড়কে চলাচলকারী মানুষের চেয়ে ইজি বাইক আর অটোরিক্সার সংখ্যা বেশি।

কলেজ ছাত্রী ফারজানা হকের সাথে কথা হয় শহরের চৌরাস্তায়। তিনি বলেন, ইচ্ছে থাকলেও হেঁটে কলেজে যেতে পারিনা, যানজটের কারণে দশ কদমও এগুনো যায়না। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ইজি বাইক, রিক্সা, বাস, ট্রাক, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর সবই চলাচল করে শহরের ওপর দিয়ে। একটা বাইপাস সড়কও আমাদের শহরে নেই। নতুন সড়ক নির্মাণ হয়নি যুগ যুগ যাবৎ।

একারণেই এমন যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বাসস্ট্যান্ড, চৌরাস্তা এবং ঠাকুরগাঁও রোড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও ইজি বাইক আর অটো রিকসার চাপে কখনও কখনও তারা অসহায় হয়ে পড়েন। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শহরের কোথাও ইজি বাইক আর অটো রিক্সার জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড না থাকায় যানজট সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তা থেকে বালিয়াডাঙ্গী মোড় পর্যন্ত ডিভাইডার সহ ৪ দশমিক ১০ কি.মি. সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের টেন্ডার ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই কাজটি শুরু হতে যাচ্ছে বলে ঠাকুরগাঁও সড়ক ও সেতু বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এ কাজটি শেষ হলেই শহরের যানজট থেকে মানুষ অনেকটাই মুক্তি পাবেন বলে সবাই আশা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য