আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ডাচ বাংলা ব্যাংক লিঃ এর এজেন্টের বিরুদ্ধে অসংখ্য গ্রাহকের ১০ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা উদ্ধারে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ দুজন থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পালিয়ে যান ব্যাংকের এজেন্ট মোস্তফা মেম্বার। আর এ ঘটনার পর থেকে টাকা ফেরত নেয়ার জন্য উক্ত ব্যাংক ভিড় জমা শতাধিক গ্রাহক। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ওই উপজেলার দইখাওয়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিনের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২২)।

সে দইখাওয়াহাটে অবস্থিত ডাচ বাংলা ব্যাংক লিঃ এর এজেন্ট শাখায় পাঁচ বছর মেয়াদী (এফ,ডি,আর নং- ৭০১৭০১১৭৭১৩৩৬) একাউন্ট খুলে বিগত ১৫/৮/১৬ ইং তারিখে ব্যাংকের রশিদ মুলে ৪০ হাজার টাকা জমা রাখেন। এমত অবস্থায় চলতি ২২/০১/১৮ ইং তারিখে উক্ত ব্যাংকে গিয়ে তার একাউন্ট চেক করে দেখেন সেখানে কোন টাকা জমা নেই। একই এলাকার দিনমজুর আব্দুর রহিমের স্ত্রী পার্ভিন বেগম (৩৫) উক্ত ব্যাংকে (এফ,ডি,আর নং- ৭০১৭০১১৯১০১৮২) একটি একাউন্ট খুলে বিগত ০৬/০৯/১৭ ইং তারিখে ব্যাংকের রশিদ মুলে ৬০ হাজার টাকা জমা রাখেন।

এমত অবস্থায় খবর পেয়ে চলতি ২২/০১/১৮ ইং তারিখে উক্ত ব্যাংকে গিয়ে সেও তার একাউন্ট চেক করে দেখেন সেখানে কোন টাকা জমা নেই। তারা উভয়ে মিলে জানতে পারেন ওই ব্যাংকের এজেন্ট ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের মাঠের পার এলাকার মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে মোস্তফা মেম্বার ও তার বড় ভাইয়ের ছেলে (ব্যাংকের ম্যানেজার) খোকনুজ্জামান খোকন মিলে তাদের মত এমন অনেকের কাছে প্রতারণা মুলক ডাচ বাংলা ব্যাংকের নামে টাকা জমা নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছে।

এমত অবস্থায় শরিফুল ও পারভিন গত ২৭ জানুয়ারি তারিখে আলাদা আলাদাভাবে হাতীবান্ধা থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনার বিষয়ে দইখায়াহাট শাখার ডাচ বাংলা ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, উক্ত ব্যাংক থেকে টাকা ফেরত নেবার জন্য শতাধিক গ্রাহক ব্যাংকের সামনে ভির জমিয়েছেন এবং ব্যাংকের ভিতর ডাচ বাংলা ব্যাংকের হাতীবান্ধা উপজেলা এজেন সামসুজ্জামান সেলিম বসে প্রত্যেকটি একাউন্টের বিষয়ে গ্রাহকদের সান্তনা দিয়ে ফিরত দিচ্ছে। তবে সেখানে মোস্তফা মেম্বারকে পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে শরিফুক ইসলাম বলেন, গরীবের কষ্টের টাকার কোন মুল্য নাই। আমি খুবই গরীব মানুষ।

অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাই। মেয়ের ভবিষতের কথা চিন্তা করে ৪০ হাজার টাকা উক্ত ডাচ বাংলা ব্যাংকে জমা রেখিলাম। আমার সব টাকা মোস্তফা মেম্বার আর তার ভাতিজা খোকন মেরে দিলো। এখন আমার টাকা কিভাবে পাব। আমি ওই ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিচার চাই। তাই আমি থানায় অভিযোগ করেছি। এবিষয়ে পারভিন বেগম বলেন, আমার স্বামীর একটি পুরাতন অটো বিক্রি করে ডাচ বাংলা ব্যাংকে ৬০ হাজার টাকা জমা রেখেছিলাম। আমার কষ্টের টাকা তারা মেরে খেয়ে। না জানি তারা এভাবে আমার মত আরও কত জনের টাকা মেরে খেয়েছে। আমি তাদের বিচার চাই।

গোতামারী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম সাবু মিয়া এবিষয়ে বলেন, ঘটনার বিষয়ে শরিফুল আর পারভিন বেগম আমার কাছে এলে আমি তাদের আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি। দইখাওয়াহাট ডাচ বাংলা ব্যাংকের ম্যানেজার খোকনুজ্জামান খোকন গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দেননি। নিয়োগ দিয়েছিলেন উক্ত ব্যাংকের এজেন্ট মোস্তফা মেম্বার। তিনি আমাকে যেভাবে বলেছিলেন, আমি সেভাবেই গ্রাহকের নিকট থেকে টাকা জমা নিয়ে তাকে দিয়েছি। আমি কোন গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করিনি। সমস্থ টাকা ব্যাংকের এজেন্টের কাছে জমা আছে।

উক্ত ডাচ বাংলা ব্যাংকের দইখাওয়ার হাট এজেন্ট মোস্তফা মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট মোঃ সামসুজ্জামান সেলিম বলেন, ঘটনার বিষয়ে জানার পরে আমি দইখাওয়াহাট ডাচ বাংলা ব্যাংক যাদের একাউন্ট আছে, তাদের প্রত্যেকটি একাউন্টের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। গ্রাহকদের চিন্তার কোন কারন নেই। তাদের টাকা অবশ্যই ফেরত দেওয়া হবে। আর ঘটনার উক্ত ব্যাংকের কোন গ্রাহকের টাকা মেরে খেলে ওই ব্যাংকের এজেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাসান সরদার বলেন, দইখাওয়াহাট ডাচ বাংলা ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে আমি দুটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য