গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে ছক্কা মারলেন ব্রুনো মার্স। বিশ্ব সংগীতের সবচেয়ে সম্মানজনক এই পুরস্কারের ৬০তম আসরে তিনি একাই জিতলেন ছয়-ছয়টি পুরস্কার। এর মধ্যে আছে সামনের সারির তিনটি পুরস্কার। তাই এ বছর গ্র্যামিতে তারই জয়জয়কার।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এই আয়োজনের ৬০তম আসর বসে ২৮ জানুয়ারি (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ২৯ জানুয়ারি ভোর)। ২০০৪ সালের পর এবারই প্রথম লস অ্যাঞ্জেলেসের স্ট্যাপলস সেন্টারের বাইরে হলো অনুষ্ঠানটি।

ব্রুনো মার্সের গাওয়া সাড়াজাগানো অ্যালবাম ‘টোয়েন্টি ফোরকে ম্যাজিক’ সেরা হয়েছে রেকর্ড অব দ্য ইয়ার, অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার ও সেরা রিদম অ্যান্ড ব্লুজ অ্যালবাম বিভাগে। এছাড়া সেরা ইঞ্জিনিয়ার্ড অ্যালবাম (নন-ক্লাসিক্যাল) বিভাগেও সেরা হয়েছে এটি। সং অব দ্য ইয়ার, সেরা রিদম অ্যান্ড ব্লুজ পারফরম্যান্স ও সেরা রিদম অ্যান্ড ব্লুজ সং হয়েছে ৩২ বছর বয়সী এই তারকার গাওয়া “দ্যাট’স হোয়াট আই লাইক”।

এক আসরে সর্বশেষ ব্রিটিশ গায়িকা অ্যাডেল ছয়টি গ্র্যামি জেতেন। সেদিক দিয়ে ইতিহাস গড়লেন ব্রুনো মার্স।এবারের আসরে পুরস্কার নেওয়ার পাশাপাশি গানও গেয়েছেন তিনি। কার্ডি বি’কে নিয়ে তিনি পরিবেশন করেন নিজের জনপ্রিয় গান ‘ফাইনেস’।

দ্বিতীয় সর্বাধিক পাঁচটি পুরস্কার ঝুলিতে ভরেছেন আমেরিকান র‌্যাপার কেন্ড্রিক ল্যামার। সেরা র‌্যাপ পারফর্ম্যান্স, সেরা র‌্যাপ গান ও সেরা মিউজিক ভিডিও বিভাগে গ্র্যামি ঘরে তুলেছে কেন্ড্রিক ল্যামারের ‘হাম্বল’। ৩০ বছর বয়সী এই তারকার ‘ড্যাম’ জিতেছে সেরা র‌্যাপ অ্যালবামের সম্মান।

কেন্ড্রিক ল্যামারের সঙ্গে ‘লয়্যালটি’ গানে কণ্ঠ দেওয়ার সুবাদে গ্র্যামি পেলেন বারবাডোজের গায়িকা রিয়ান্না। তাদের গানটি জিতেছে সেরা র‌্যাপ/সাং পারফর্ম্যান্স পুরস্কার। গত বছর র‌্যাপার কানইয়ে ওয়েস্টের পাশাপাশি সর্বাধিক আটটি মনোনয়ন পেলেও এই গায়িকাকে ফিরতে হয়েছিল খালি হাতে।

এ বছরও সর্বাধিক আটটি মনোনয়ন পাওয়া মার্কিন র‌্যাপার জে-জি ফিরেছেন পুরোপুরি শূন্য হাতে। এমন ঘটনা আরও একবার দেখা গেছে। ১৯৬৬ সালে স্যার পল ম্যাককার্টনিরও একইরকম অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তিনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন ৯টি বিভাগে। কিন্তু জিততে পারেননি একটি পুরস্কারও।

এদিকে গত বছরের সাড়াজাগানো গান ‘দেসপাসিতো’ একাধিক মনোনয়ন পেলেও পুরস্কারের স্বাদ পায়নি। তবে বিশ্বব্যাপী শ্রোতা প্রিয় ব্রিটিশ তারকা এড শেরানের ‘ডিভাইড’ সেরা পপ ভোকাল অ্যালবাম হয়েছে। এছাড়া ‘শেপ অব ইউ’ গানের মাধ্যমে সেরা পপ সলো পারফর্ম্যান্স স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।

এবারের আসরে মেয়েদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচটি মনোনয়ন পাওয়া সিজাও ফিরেছেন খালি হাতে। সব মিলিয়ে ৮৬টি বিভাগে গ্র্যামি পুরস্কার দিয়েছে ন্যাশনাল একাডেমি অব রেকর্ডিং আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস। এর মধ্যে কেবল ১৭টি জিতেছেন নারীরা।

সেরা নতুন শিল্পী হয়েছেন কানাডিয়ান তরুণী অ্যালেসিয়া কারা। নারীদের মধ্যে তিনিই একমাত্র সামনের সারির কোনও পুরস্কার জিতেছেন। আত্মহত্যা করতে গিয়েও বেঁচে যাওয়া বেশ কয়েকজনকে নিয়ে তিনি সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া আত্মহত্যা করা সংগীতশিল্পী চেস্টার বেনিংটন ও ক্রিস কর্নেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার সঙ্গে গেয়েছেন খালিদ ও লজিক। ম্যানচেস্টার ও লাস ভেগাসে কনসার্টে নিহত সংগীতপ্রেমীদের স্মরণেও ছিল পরিবেশনা।

‘এল দোরাদো’র মাধ্যমে সেরা ল্যাটিন পপ অ্যালবাম পুরস্কার পেয়েছেন শাকিরা। প্রয়াত অভিনেত্রী ক্যারি ফিশার বেস্ট স্পোকেন ওয়ার্ড অ্যালবাম (কবিতা, অডিও গ্রন্থ ও গল্প কথন) বিভাগে মরণোত্তর পুরস্কার পেয়েছেন ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিস্ট’-এর জন্য।

বেস্ট কান্ট্রি অ্যালবাম বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে ক্রিস স্ট্যাপেলটনের ‘ফ্রম অ্যা রুম: ভলিউম ওয়ান’ অ্যালবামটি। তার গাওয়া ‘ব্রোকেন হ্যালোস’ হয়েছে সেরা কান্ট্রি সং। ‘আইদার ওয়ে’র জন্য সেরা কান্ট্রি সলো পারফর্ম্যান্স স্বীকৃতিও এসেছে তার হাতে।

সেরা রক পারফর্ম্যান্স বিভাগে ‘ইউ ওয়ান্ট ইট ডার্কার’-এর জন্য মরণোত্তর গ্র্যামি পেয়েছেন লিওনার্ড কোহেন। বেস্ট রক অ্যালবামের পুরস্কার ঘরে তুলেছে আমেরিকান রক ব্যান্ড দ্য ওয়ার অন ড্রাগসের ‘অ্যা ডিপার আন্ডারস্ট্যান্ডিং’। সেরা রক গান নির্বাচিত হয়েছে আমেরিকান ব্যান্ড ফু ফাইটার্সের ‘রান’। এছাড়া বেস্ট মেটাল পারফর্মেন্স বিভাগে গ্র্যামি পেয়েছে মার্কিন ব্যান্ড ম্যাস্টোডনের “সুলতান’স কার্স” গানটি।

আসরের অন্যতম চমক ছিল বিখ্যাত তারকাদের মঞ্চ পরিবেশনা। তাদের সুরের মাধুর্য আর বর্ণিল পরিবেশনায় বিমোহিত হয়েছেন সবাই। সাড়ে তিন ঘণ্টার অনুষ্ঠানটিতে মঞ্চ পরিবেশনায় আরও অংশ নিয়েছেন মার্কিন গায়িকা লেডি গাগা। তিনি গেয়ে শোনান ‘জোয়ান’। ‘দেসপাসিতো’ পরিবেশন করেন লুই ফনসি ও ড্যাডি ইয়াঙ্কি। এছাড়া মঞ্চ মাতিয়েছেন ইউটু ব্যান্ড, এলটন জন, পিঙ্ক, মাইলি সাইরাস, স্যাম স্মিথ, কেশা, কামিলা কাবেলো, ডিজে খালেদ, রিয়ান্না, স্টিং প্রমুখ। কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়, নারী ও অভিবাসীদের সমর্থন জানিয়ে ফ্রিস্টাইল র‌্যাপ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।
এ আয়োজন উপস্থাপনা করেন ব্রিটিশ তারকা জেমস গর্ডেন। ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সময়ে প্রকাশিত গান ও সংগীতের মধ্য থেকে সেরাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে এবার। ১৯৫৯ সালের ৪ মে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস।

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের ৬০তম আসরের বিজয়ী তালিকা
রেকর্ড অব দ্য ইয়ার: টোয়েন্টি ফোরকে ম্যাজিক (ব্রুনো মার্স)
অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার: টোয়েন্টি ফোরকে ম্যাজিক (ব্রুনো মার্স)
সং অব দ্য ইয়ার: দ্যাট’স হোয়াট আই লাইক (ব্রুনো মার্স)
সেরা নতুন শিল্পী: অ্যালেসিয়া কারা
সেরা পপ সলো পারফর্ম্যান্স: শেপ অব ইউ (এড শেরান)
সেরা পপ ভোকাল অ্যালবাম: ডিভাইড (এড শেরান)
সেরা পপ দ্বৈত/দলীয় পারফর্ম্যান্স: ফিল ইট স্টিল (পর্তুগাল. দ্য ম্যান)
সেরা ট্র্যাডিশনাল পপ ভোকাল অ্যালবাম: টনি বেনেট সেলিব্রেটস নাইনটি (প্রযোজক ডেই বেনেট)
সেরা ড্যান্স রেকর্ডিং: টুনাইট (এলসিডি সাউন্ড সিস্টেম)
সেরা ড্যান্স/ইলেক্ট্রনিক অ্যালবাম: থ্রি-ডি দ্য ক্যাটালগ (ক্র্যাফটওয়ের্ক)
সেরা কনটেম্পোরারি ইনস্ট্রুমেন্টাল অ্যালবাম: প্রোটোটাইপ (জেফ লরবার ফিউশন)
সেরা রক পারফর্ম্যান্স: ইউ ওয়ান্ট ইট ডার্কার (লিওনার্ড কোহেন)
সেরা মেটাল পারফর্ম্যান্স: সুলতান’স কার্স (ম্যাস্টোডন)
সেরা রক সং: রান (ফু ফাইটার্স)
সেরা রক অ্যালবাম: অ্যা ডিপার আন্ডারস্ট্যান্ডিং (দ্য ওয়ার অন ড্রাগস)
সেরা অল্টারনেটিভ মিউজিক অ্যালবাম: স্লিপ ওয়েল বিস্ট (দ্য ন্যাশনাল)
সেরা রিদম অ্যান্ড ব্লুজ পারফর্ম্যান্স: দ্যাট’স হোয়াট আই লাইক (ব্রুনো মার্স)
সেরা ট্র্যাডিশনাল রিদম অ্যান্ড ব্লুজ পারফর্ম্যান্স: রেডবোন (চাইল্ডিশ গ্যাম্বিনো)
সেরা রিদম অ্যান্ড ব্লুজ সং: দ্যাট’স হোয়াট আই লাইক (ব্রুনো মার্স)
সেরা রিদম অ্যান্ড ব্লুজ অ্যালবাম: টোয়েন্টি ফোরকে ম্যাজিক (ব্রুনো মার্স)
সেরা আরবান কন্টেমপোরারি অ্যালবাম: স্টারবয় (দ্য উইকেন্ড)
সেরা র‌্যাপ পারফর্ম্যান্স: হাম্বল (কেন্ড্রিক লামার)
সেরা র‌্যাপ/সাং পারফর্ম্যান্স: লয়্যালটি (কেন্ড্রিক লামার ফিচারিং রিয়ান্না)
সেরা র‌্যাপ সং: হাম্বল (কেন্ড্রিক লামার)
সেরা র‌্যাপ অ্যালবাম: ড্যাম (কেন্ড্রিক লামার)
সেরা কান্ট্রি সলো পারফর্ম্যান্স: আইদার ওয়ে (ক্রিস স্ট্যাপেলটন)
সেরা কান্ট্রি দ্বৈত/দলীয় পারফর্ম্যান্স: বেটার ম্যান (লিটল বিগ টাউন)
সেরা কান্ট্রি সং: ব্রোকেন হ্যালোস (ক্রিস স্ট্যাপেলটন)
সেরা কান্ট্রি অ্যালবাম: ফ্রম অ্যা রুম: ভলিউম ওয়ান (ক্রিস স্ট্যাপেলটন)
সেরা নিউ এজ অ্যালবাম: ড্যান্সিং অন ওয়াটার (পিটার কেটার)
সেরা ল্যাটিন পপ অ্যালবাম: এল দোরাদো (শাকিরা)
সেরা ল্যাটিন রক/আরবান/অল্টারনেটিভ অ্যালবাম: রেসিডেন্ট (রেসিডেন্ট)
সেরা ট্রাডিশনাল ব্লুজ অ্যালবাম: ব্লু অ্যান্ড লোনসাম (দ্য রোলিং স্টোনস)
সেরা র‌্যাগে অ্যালবাম: স্টোনি হিল (ডেমিয়েন মার্লে)
সেরা মিউজিক্যাল থিয়েটার অ্যালবাম: ডিয়ার ইভান হ্যানসেন
সেরা ইঞ্জিনিয়ার্ড অ্যালবাম (নন-ক্লাসিক্যাল): টোয়েন্টি ফোরকে ম্যাজিক (ব্রুনো মার্স)
সেরা মিউজিক ভিডিও: হাম্বল (কেন্ড্রিক লামার)
সেরা মিউজিক ফিল্ম: দ্য ডিফায়েন্ট ওয়ানস (বিভিন্ন শিল্পী)

* এছাড়া ক্লাসিক্যাল, সারাউন্ড সাউন্ড, রিমিক্সার, প্রডিউসার, হিস্টোরিক্যাল, নোটস, প্যাকেজিং, অ্যারেঞ্জিং, কম্পোজিং, মিউজিক ফর ভিজ্যুয়াল মিডিয়া, কমেডি, চিলড্রেন, ওয়ার্ল্ড মিউজিক, আমেরিকান রুটস, গসপেল/কন্টেমপোরারি ক্রিশ্চিয়ান মিউজিক, জ্যাজ বিভাগগুলোতে আরও অসংখ্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য