দিনাজপুর সংবাদাতাঃ কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখার দাবীতে দিনাজপুর জেলা বেকারী মালিক সমিতির আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৮ জানুয়ারী রোববার দিনাজপুর প্রেসক্লাব কমপ্লেক্স মিলনায়তনে দিনাজপুর বেকারী মালিক সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারী প্রস্তুত কারক সমিতির উত্তরবঙ্গের সভাপতি মোঃ মাকসুদুল আলম পাটোয়ারী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয় ভ্যান আইন ১৯৯১ সাল থেকে প্রবর্তিত্। শুভারম্ভ থেকেই বেকারী শিল্প কুটির, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভ্যাটের আওতা বর্হিভূত ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে বিস্কুট ও চানাচুরকে ভ্যাট আওতাভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারী প্রস্তুতকারক সমিতি এই আন্তর্ভুক্তির বিরোধীতা করে আসছে।

এরই ফলশ্রুতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০-৬-২০১৬ ইং তারিখে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও এনবিআর এর চেয়ারম্যান মহোদয়কে আবেদনটি বিবেচনার জন্য তাদের স্ব-স্ব দপ্তরে প্রেরণ করেন।

তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯-৮-২০১৭ ইং তারিখে এনবিআর এর দ্বিতীয় সচিব মোঃ তারেক হাসান স্বাক্ষরিত এক আদেশ বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারী প্রস্তুতকারক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতির বরাবরে প্রেরণ করেন। যাতে বিষয়ে পরিস্কারভাবে উল্লেখ আছে “হাতে তৈরি পাউরুটি, বার্ন রুটি, কেক-ব্রেড বিস্কুট ও অন্যান্য কনফেকশনারী খাদ্য সামগ্রীর উপর থেকে ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান।

তবে শর্তে যা বলা হয়েছে তা হলো যে সকল বেকারী প্রতিষ্ঠানের মেশিনারীজ, বছরের যে কোন সময় ৪০ লক্ষ টাকার অধিক নহে, সেই সকল প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য অবশ্যই ভ্যাট আওতামুক্ত থাকবে। বিষয়টিকে জটিল করার জন্য অন্য শর্তে বলা হয়েছে যাদের টার্ণওভার ৬০ লক্ষ টাকার অধিক নহে তারাই এই সুবিধা ভোগ করবে।

কিন্তু অন্তবর্তীকালিন সময় কোন বেকারী শিল্পে ভ্যান আদায় না করার মৌখিক নির্দেশনা দেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এরই মধ্যে বিভাগীয় সভাপতি মোঃ সাইফুল্লার পণ্য পরিবহন ভ্যান কুড়িগ্রামে আটক করা হয়। দীর্ঘ ৫ দিন যাবত উক্ত পণ্যবাহী ভ্যান আটক থাকাতে উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রচার ক্ষতির সম্মুখিন হয়।

আমাদের দাবী যদিও কাস্টমস্্ কমিশনারের বরাবরে লিখিতভাবে প্রদান করা হয়েছে। তার সমাধান পর্যায় না যাওয়া পর্যন্ত ভ্যাট আদায় বন্ধ রাখতে হবে। যে বিষয়টিকে আমরা বেশী যুক্তিসংগত মনে করি, তা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকা মোতাবেক আমরা হলাম,৩নং তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান। যা কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত।

এই পর্যায়ে কৃষিজাতপণ্য প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে ময়দার মিল, চালকলসহ অন্যান্য কৃষিজাতপণ্য প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান ভ্যান আওতায় বর্হিভূত আছে, বেকারীও ছিল। কিছু সংখ্যক সরকারি স্বার্থ্যান্বেষী মহল নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই শিল্পটিকে ভ্যাটের আওতায় যুক্ত করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বেকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান অহেতুক ভ্যাট হয়রানীর সম্মুখীন হচ্ছে।

বেকারী শিল্পের দ্বারা শুধু উত্তরবঙ্গের দক্ষ, অদক্ষ প্রায় ২ লক্ষ পুরুষ ও মহিলা কর্মকরে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাচ্ছে। যাহা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসংস্থান আইনের পরিপুর্ণতা পাইতে অনেকটা ঘাটতি পূরন হচ্ছে। সকল দিক থেকে আমাদের যৌক্তিক দাবী ভ্যাট আইন প্রবর্তিত হওয়া শুরু থেকেই, আমরা ভ্যান মুক্ত প্রতিষ্ঠান ছিলাম। ভবিষ্যতেও এই সুবিধা ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি শিল্প হিসেবে অব্যাহত থাকবে।

তাতে দেশের বেকার সমস্যার সিংহভাগ পরিপূর্ণতা পাবে। আমরা সরকারের নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উচ্চারণ করি স্বল্প পূঁজি বিকাশের সার্থে; অধিক কর্মসংস্থান করার সুযোগ সৃষ্টিতে বেকারী শিল্প অবশ্যই ভ্যানমুক্ত রাখা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা বেকারী মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মোহাম্মদ আইউব আলী, সহ-সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান রবি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম শেখ, কোষাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য