মোঃ রজব আলী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) থেকেঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মাধ্যমিক বিদ্যালযের বই বানিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট হয়ে উঠেছে, বই বানিজ্যকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি। শিক্ষক সমিতি কর্তৃক চুক্তিকৃত প্রকাশনীর বই না কেনায়, সমিতির বাহিরে বই চুক্তি করা বিদ্যালয় গুরোতে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ভান্ডের টাকা জমা নিচ্ছে না শিক্ষক সমিতি, এতেকরে শিক্ষকদের মধ্যে টানা ক্ষোব বিরাজ করছে।

একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃক শিক্ষার্থীদেরকে ইংরাজি গ্রামার, বাংলা ব্যাকারণ ও সহায়ক (গাইড) অতিরিক্ত বই কিনতে বাধ্য করায়। এই অতিরিক্ত বই গুলো নিদিষ্ট একটি প্রকাশনীর কেনার জন্য বিদ্যালয় গুলো ওই প্রকাশনীর সাথে গোপনে একটি কমিশন চুক্তি করে থাকে।

যে প্রকাশনী শিক্ষকদের বেশি কমিশন দেয, সেই প্রকাশনীর বই কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের বলে দেয়া হয়। এই কাজটি দির্ঘদিন থেকে শিক্ষক সমিতি গোপনে করে আসায় কমিশন চুক্তির কথাও গোপন ছিল কিন্তু এই বছর শিক্ষক সমিতি একটি প্রকাশনীর সাথে চুক্তি করলেও, সমিতির চুক্তিকে না মেনে উপজেলার অর্ধেকের বেশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা অন্য প্রকাশনীর সাথে চুক্তি করেছে, ফলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে শিক্ষক সমিতি।

এদিকে সমিতির চুক্তি করা বই যে বিদ্যালয় গুলো নেয়নি, সেই বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যান ভান্ডের টাকা জমা নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে সমিতির বর্তমান কমিটি। এতেকরে সাধারন শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শহরের চা-ষ্টোল গুলোতে গেলেই দেখা যায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আলোচনা।

কয়েক জন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বই বানিজ্যকে কেন্দ্র করে সমিতি সাধারন শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যান ফন্ডের টাকা জমা নেয়া বন্ধ করেছে সমিতির বর্তমান কমিটি। তারা বলেন শিক্ষককেরা কল্যান ফান্ডের এই টাকা সমিতির মাধ্যমে ব্যাংকে এফডিআর এর মধ্যেমে জমা করা হয়, যা অবসরের সময় এক যোগে পেয়ে থাকে। এখন কল্যাণ ফন্ডের টাকা জমা না নেয়ায তাদের অবসর ভবিষৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

খোজ নিয়ে জানা গেছে উপজেলা মিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দরা জুপিটার প্রকাশনীর এ্যাডভান্স ইংরাজি গ্রামার, বাংলা ব্যকারণ ও একই প্রকাশনীর সহায়ক (গাইড) বই কেনার চুক্তি করেছে। সমিতির বাহিরে থাকা বিদ্যালয় গুলো চুক্তি করেছে পাঞ্জেরী প্রকাশনীর অক্ষরপত্র ইংরাজি গ্রামার ও বাংলা ব্যকারণসহ একই প্রকাশনীর সহায়ক (গাইড) বই কেনার।

সমিতির এই চুক্তির সাথে আছেন, ফুলবাড়ী জিএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, পুখুরী স্কুল এ্যান্ড কলেজ, ফুলবাড়ী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ফুলবাড়ী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয, উত্তর লক্ষিপুর উচ্চ বিদ্যালয় , দাদুল উচ্চ বিদ্যালয়, বেতদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়, রামভদ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মীরপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মুরারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নন্দিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, সিএম নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয, শিবনগর নি¤œ মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয, সমসের নগর নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দামারপাড় নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যারয়, চৌরাই মহেষপুর উচ্চ বিদ্যালয, ও রাঙ্গামটি রাইফেলস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (বর্তমানে পাইলট প্রগ্রামে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান চলছে)।

সমিতির বাহিরে আছেন রাজারামপুর উচ্চ বিদ্যালয, রাঙ্গামাটি উচ্চ বিদ্যারয়, কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালযসহ উপজেলার অনান্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ল গুলো। তারা একত্রিভাবে সমিতির বাহিরে বই কেনার চুক্তি করেছেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক তোজাম্মেল হক বলেন, সমিতির দুটি তহবীল আছে, একটি কণ্যাণ তহবীল ও একটি সাধারন তহবীল, কণ্যান তহবীলের টাকা শিক্ষকেরা দিলেও সাধারন তহবীলে টাকা দেয় কে। তিনি বলেন সমিতির সাধারন তহবীলের অর্থ দিয়ে শিক্সকদের দাবী দাওয়া নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চলে। তারা সাধারন তহবীলের টাকা জমা দিলেই কল্যাণ ফান্ডের টাকা জমা নেয়া হবে। বইয়ের কমিশন নেয়ার কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন কথার উত্তর না দিয়ে বরেন বই যদি নিষিদ্ধ হয তাহলে প্রকাশনীরা ছাপায় কিভাবে।

এই বিষযে উপজেলা মাধ্যমি শিক্ষা কর্মকর্তা সমসের আলীর সাথে কথা বললে, তিনি বলেন বিষযটি শুনেছি, এবং তাদের এই বই বানিজ্য করতে প্রত্যককে নিষেদ করা হয়েছে।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস ছালাম চৌধুরীর সাথে কথা বলরে তিনি বলেন, সরকাার শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথম দিনে বিনা মুল্য বই দিচ্ছে, এই বইয়ের বাহিরে বই দেয়া অবৈধ্য, যদি কোন বিদ্যারয় ও সমিতি এই রকম কাজ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য