কাতালুনিয়ার সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বাধীনতাপন্থি নেতা কার্লেস পুজদেমনের নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শর্তারোপ করে স্পেনের সাংবিধানিক আদালত বলেছে, বেলজিয়ামে অবস্থান করা এ রাজনীতিক ‘বিদেশ থেকে নেতৃত্ব’ দিতে পারবেন না।

স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাংবিধানিক আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করেছে বলে শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে কাতালুনিয়ার আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর থেকে ব্রাসেলসে বসবাস করছেন পুজদেমন।

স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় সাবেক এ কাতালান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে স্পেনের আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও বিদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে. যা প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

অক্টোবরের শুরুতে অনুষ্ঠিত এক গণভোটের সূত্রেই স্বাধীনতার ওই ঘোষণা দেওয়ার কথা বলেছিলেন পুজদেমন; যে গণভোটকে অবৈধ অ্যাখ্যা দিয়ে আসছে মাদ্রিদ।

ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় কাতালুনিয়ার পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার সেখানে নতুন আঞ্চলিক নির্বাচনের ডাক দেয়। ডিসেম্বরের সেই নির্বাচনে রাজনৈতিক সংকট নিরসন হবে মাদ্রিদের এমন প্রত্যাশা থাকলেও স্বাধীনতাপন্থি জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে পুজদেমনের ফের প্রেসিডেন্ট পদে ফেরার সুযোগ হয়।

মঙ্গলবার কাতালান পার্লামেন্টে নতুন প্রেসিডেন্ট ঠিক করতে ভোট হওয়ার কথা; যেখানে পুজদেমন ছাড়া অন্য কারও নাম প্রস্তাব করা হয়নি।

স্বাধীনতাপন্থি এ নেতার সমর্থকরা বলছেন, ভিডিও লিংকের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুজদেমন চাইলে বেলজিয়াম থেকেও তার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

স্পেন সরকারের ভাষ্য, কোনো ‘পালিয়ে থাকা’ ব্যক্তি আঞ্চলিক পার্লামেন্টের নেতৃত্ব দিতে পারে না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পরে সাংবিধানিক আদালতেরও দ্বারস্থ হয় তারা। সেখানেই বিদেশ থেকে পুজদেমনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে আপত্তির কথা জানানো হয়।

এক বিবৃতিতে সাংবিধানিক আদালত পুজদেমনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্থগিতাদেশ দিয়ে বলেছে, স্বাধীনতাপন্থি নেতা যতক্ষণ পর্যন্ত পার্লামেন্টে স্বশরীরে হাজির না হবেন এবং আদালতের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি না নেবেন ততক্ষণ পর্যন্ত এ নির্দেশ বলবৎ থাকবে।

সাংবিধানিক আদালত সর্বস্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য